সোনার দুলের লোভে শিশুকে হত্যা করে বস্তাবন্দি

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

সারাদেশ

বগুড়ার সান্তাহারে সোনার দুলের লোভে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক দম্পতির বিরুদ্ধে। হত্যার পর

2026-06-12T17:16:28+00:00
2026-06-12T17:16:28+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩১ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
সোনার দুলের লোভে শিশুকে হত্যা করে বস্তাবন্দি
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ৫:১৬ পিএম 
ছবি : সময়ের আলো
বগুড়ার সান্তাহারে সোনার দুলের লোভে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী এক দম্পতির বিরুদ্ধে। হত্যার পর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে শিশুটির মরদেহ বস্তাবন্দি করে নিজ বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে সান্তাহার পৌর শহরের সাহেবপাড়া মহল্লা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয় এবং তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটকরা হলেন, সাহেবপাড়া এলাকার আবুলের ছেলে আমজাদ হোসেন (৪২), তার স্ত্রী বন্যা বেগম (৩০) এবং প্রতিবেশী আব্দুল কাদেরের ছেলে বাবু (৪০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সান্তাহার পৌর শহরের সাহেবপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং অটোভ্যান গ্যারেজ কর্মচারী আবু রায়হানের মেয়ে রাখা মনি স্থানীয় একটি নূরানি মাদ্রাসার নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মায়ের অন্যত্র বিয়ে হওয়ার পর সে দাদির কাছেই থাকত।

প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার আছরের আজানের পর রাখা মনি বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছিল। পথে প্রতিবেশী আমজাদ হোসেনের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে কৌশলে বাড়ির ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। শিশুটির কানে থাকা এক জোড়া সোনার দুল ছিনিয়ে নেওয়ার পর গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ঘরের মেঝেতে ফেলে রাখা হয়।

এদিকে বিকেল থেকে শিশুটিকে না পেয়ে তার বাবা, দাদি, ফুফু ও স্বজনরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত ৯টার দিকে মাইকিংও করা হয়।

একপর্যায়ে স্থানীয় কিশোর আমিন আমজাদের বাড়িতে বস্তাবন্দি মরদেহ দেখতে পেয়ে বিষয়টি জানায়। খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী আমজাদ ও তার স্ত্রীকে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং পরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। একই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বাবুকেও আটক করা হয়।

পুলিশ অভিযুক্তদের থানায় নেওয়ার পর উত্তেজিত জনতা তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শকসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

নিহত শিশুর বাবা আবু রায়হান বলেন, সামান্য এক জোড়া সোনার দুলের জন্য আমার এতিম ও নিষ্পাপ মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সোনার দুলের লোভেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও একজন নারীকে থানায় আনা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

আরবিএন 
  বিষয়:   বগুড়া  সান্তাহার 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: