ল্যাভেন্ডার, হলুদ ও মেরুন রঙের চোখের মতো নকশা এবং পাকা মরিচের মতো লাল ও কালো রঙের মনোমুগ্ধকর মিশ্রণে সজ্জিত প্রজাপতি। নাম পিকক। একদিকে যেমন অপূর্ব সুন্দর, অন্যদিকে তেমনি অত্যন্ত পরিচিত। বসন্ত, গ্রীষ্ম ও শরৎজুড়ে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের সর্বত্র এদের ওড়াউড়ি দেখা যায়। এটিই ব্রিটেনের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রজাপতি। জনপ্রিয়তা নির্বাচনের ভোটাভুটিতে বিজয়ের মুকুট জেতা দৃষ্টিনন্দন প্রজাপতিটি যুক্তরাজ্যজুড়ে সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
দাতব্য সংস্থা বাটারফ্লাই কনজারভেশনের আয়োজিত জরিপে ৫৯টি দেশীয় প্রজাতিকে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো এটি দেশের সবচেয়ে প্রিয় প্রজাপতির স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০ হাজারেরও বেশি ভোট পড়া এই প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় হয়েছে অরেঞ্জ-টিপ, তৃতীয় রেড অ্যাডমিরাল, আর এরপরের দুটি স্থান দখল করেছে হলি ব্লু ও সালফার-হলুদ ব্রিমস্টোন।
আরও পড়ুন
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীর্ষ পাঁচটি প্রজাতিই দেশের অধিকাংশ অঞ্চলের বাগান, পার্ক ও শহরতলিতে সহজেই চোখে পড়ে। তবে তুলনামূলকভাবে বিরল ও বিপন্ন প্রজাতিগুলো তেমন সাফল্য পায়নি। উদাহরণস্বরূপ, ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় প্রজাপতি সোয়ালোটেইল নবম স্থানে রয়েছে। দৃষ্টিনন্দন ও প্রায় বিদেশি চেহারার এই প্রজাতিটি সাধারণত শুধু নরফোক ব্রডসের জলাভূমি এলাকায় দেখা যায়। অন্যদিকে ঝলমলে বেগুনি আভাযুক্ত ও উৎসাহী অনুরাগীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় পার্পল এম্পেরর আশ্চর্যজনকভাবে পঞ্চদশ স্থানে জায়গা করে নিয়েছে।
ভোটাররা যদিও সবচেয়ে চটকদার কিছু প্রজাপতিকে উপেক্ষা করেছেন, তবু মথসদৃশ স্কিপার কিংবা নান্দনিক কিন্তু তুলনামূলক কম রঙিন প্রজাপতিগুলোরও তেমন সমর্থন মেলেনি। তালিকার একেবারে নিচের দশটি প্রজাতির সবকটিই ছিল ধূসর, বাদামি, সোনালি-বাদামি বা কালো ডানার প্রজাপতি।
বাটারফ্লাই কনজারভেশনের সম্পৃক্ততা বিভাগের প্রধান কেট মেরি বলেন, ব্রিটেনের সবচেয়ে প্রিয় প্রজাপতি নির্বাচন নিয়ে মানুষের সাড়া সত্যিই অসাধারণ ছিল। দেশজুড়ে মানুষ যে সব ধরনের, সব আকারের ও সব রঙের প্রজাপতিকে ভালোবাসে, তা স্পষ্ট। হাজার হাজার মানুষ তাদের পছন্দের প্রজাপতির পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, পিকক প্রজাপতি নিঃসন্দেহে যোগ্য বিজয়ী। এটি সত্যিকারের নজরকাড়া এক প্রজাতি। আর ‘প্রজাপতি’ শব্দটি শুনলে ব্রিটিশদের অনেকের মনেই সম্ভবত প্রথমে এই প্রজাতির ছবিই ভেসে ওঠে। মানুষকে তাদের প্রিয় প্রজাপতির জন্য এতটা আবেগপ্রবণ হয়ে সমর্থন জানাতে দেখা সত্যিই বিশেষ অভিজ্ঞতা ছিল। এখন আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি, এ বছরের ‘বিগ বাটারফ্লাই কাউন্ট’-এ দেশজুড়ে কত পিকক প্রজাপতি দেখা যায় তা জানার জন্য।
এ বছরের ‘বিগ বাটারফ্লাই কাউন্ট’-এ সবচেয়ে বেশি দেখা যেতে পারে এমন প্রজাতিগুলোর মধ্যে পিকক প্রজাপতি অন্যতম। কারণ বর্তমানে প্রজাপতিপ্রেমীরা নেটল গাছে এদের শুঁয়োপোকার বিপুল উপস্থিতির খবর দিচ্ছেন। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে বিপুলসংখ্যক পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতির আবির্ভাব ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘বিগ বাটারফ্লাই কাউন্ট’ বিশ্বের বৃহত্তম প্রজাপতি জরিপ। এতে অংশগ্রহণকারীরা যেকোনো খোলা স্থানে ১৫ মিনিট সময় ব্যয় করে দেখা প্রজাপতি ও দিনের বেলায় উড়তে দেখা মথের সংখ্যা গণনা করেন। এরপর একটি বিনামূল্যের অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সেই তথ্য জমা দেন। এ বছরের জরিপ শুরু হবে ১৭ জুলাই থেকে।
এবারের গ্রীষ্মে আরেকটি প্রজাতি, যাকে বিপুল সংখ্যায় দেখা যেতে পারে সেটি হলো পেইন্টেড লেডি প্রজাপতি। জনপ্রিয়তার ভোটে এটি দশম স্থান পেয়েছে। আফ্রিকা থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসা এই পরিযায়ী প্রজাপতি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্যাপক সংখ্যায় ব্রিটেনে পৌঁছেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে এদের শুঁয়োপোকা হাজার হাজার থিসল গাছের পাতা খেয়ে বেড়ে উঠবে, এরপর জন্ম নেবে ব্রিটেনে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের পেইন্টেড লেডি প্রজাপতি।
এএডি/