বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান সংগীতশিল্পী ও ডিজে সঞ্জয় (মাঝে)। ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরকে ঘিরে কানাডায় শুরু হয়েছে উৎসবের নতুন এক অধ্যায়। প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ নিজেদের মাটিতে আয়োজনের ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে অনুষ্ঠিত হলো বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন। ফুটবল, সংগীত, নৃত্য এবং প্রযুক্তিনির্ভর আলোকসজ্জার সমন্বয়ে বিশ্বকাপের উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়ে হাজারো দর্শকের মাঝে।
যৌথ আয়োজক হিসেবে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো এবার বিশ্বকাপের দায়িত্ব ভাগাভাগি করছে। মেক্সিকোতে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর কানাডাও নিজেদের প্রথম ম্যাচ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বকে জানিয়ে দিল, তারা প্রস্তুত বিশ্বকাপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বাগতিক হিসেবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই তুলে ধরা হয় কানাডার আদিবাসী ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। দেশটির প্রাচীন জনগোষ্ঠীর শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে পরিবেশিত হয় ঐতিহ্যবাহী সংগীত ও নৃত্য। উদ্বোধনী পর্বে দর্শকদের সামনে গান পরিবেশন করেন আদিবাসী বংশোদ্ভূত শিল্পী উইলিয়াম প্রিন্স। এরপর নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনায় মঞ্চজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
আজকের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের জনপ্রিয় পারফরমার নোরা ফাতেহি। তার সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন ফরাসি হিপ-হপ শিল্পী ভেগেড্রিম এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান ডিজে ও সংগীতশিল্পী ডিজে সঞ্জয়। তিন শিল্পীর যৌথ পরিবেশনা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বিশেষ করে ডিজে সঞ্জয়ের অংশগ্রহণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য গর্বের উপলক্ষ হয়ে ওঠে।
বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সংগীত ‘সির সির’ পরিবেশন করে নোরা ফাতেহি দর্শকদের মুগ্ধ করেন। প্রাণবন্ত নৃত্য, চমকপ্রদ মঞ্চসজ্জা এবং আধুনিক আলোক প্রযুক্তির ব্যবহারে তার পরিবেশনা ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আলোচিত অংশ।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান সংগীতশিল্পী ও ডিজে সঞ্জয়। ছবি : সংগৃহীত
এছাড়া বিশ্বকাপের অফিসিয়াল অ্যালবামের গান ‘ইলুমিনেট’ পরিবেশন করেন জেসি রেয়েজ ও এলিয়ান্না। অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন কানাডার জনপ্রিয় শিল্পী অ্যালানিস মরিসেট, জেসি রেয়েজ এবং মাইকেল বুবলে। তাদের পরিবেশনা বিশ্বকাপ উৎসবকে আরও বর্ণিল করে তোলে।
আয়োজকরা এবারের অনুষ্ঠানে কানাডার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়কে বিশেষভাবে তুলে ধরেন। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের শিল্পীদের অংশগ্রহণে ফুটবলের মাধ্যমে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের বার্তা দেওয়া হয়। বিশ্বকাপ যে কেবল একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং সংস্কৃতি ও মানুষের মিলনের এক বৈশ্বিক মঞ্চ— সেই বার্তাই ছিল পুরো আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য।
স্টেডিয়ামের বাইরেও বিশ্বকাপের আবহ ছড়িয়ে পড়ে টরন্টোর বিভিন্ন এলাকায়। নেথান ফিলিপস স্কয়ারে দিনভর চলে ফুটবলভিত্তিক নানা আয়োজন। ছোট আকারের মাঠে দর্শনার্থীদের খেলাধুলা, ছবি তোলা এবং উৎসব উদযাপনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান সংগীতশিল্পী ও ডিজে সঞ্জয়। ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপ উপলক্ষে আধুনিকায়ন করা হয়েছে বিএমও ফিল্ডও। দর্শক ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে ৪৫ হাজার ৭৩৬ জনে উন্নীত করা হয়েছে স্টেডিয়ামটির আসনসংখ্যা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বিশ্বকাপ চলাকালে টরন্টো আন্তর্জাতিক ফুটবলপ্রেমীদের অন্যতম প্রধান মিলনস্থলে পরিণত হবে।
এদিকে, বিশ্বকাপে স্বাগতিক দেশের মর্যাদা পাওয়া কানাডা নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জাঁকজমক ফুটবলপ্রেমীদের মনে বিশ্বকাপের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নোরা ফাতেহির তারকাখ্যাতি এবং বাংলাদেশি ডিজে সঞ্জয়ের উপস্থিতি সেই উৎসবকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা।