যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ অবসানের ঐতিহাসিক চুক্তি ‘একেবারে নাগালের মধ্যে’: আব্বাস আরাগচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

দীর্ঘদিন ধরে চলা মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা এখন ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে

2026-06-13T09:02:05+00:00
2026-06-13T09:02:05+00:00
 
  শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬,
৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ অবসানের ঐতিহাসিক চুক্তি ‘একেবারে নাগালের মধ্যে’: আব্বাস আরাগচি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৯:০২ এএম   (ভিজিট : ২১)
সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘদিন ধরে চলা মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা এখন ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থান করছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্বয়ং এই ইঙ্গিত দিয়েছেন। শুক্রবার (১২ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে সম্ভাব্য যুগান্তকারী চুক্তির আভাস দেওয়া হচ্ছিল, তা এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। তবে চুক্তিটি এখনও চূড়ান্তভাবে স্বাক্ষরিত হয়নি বলে গভীর রাতে ইরানের প্রেস টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন তিনি।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত চুক্তিটি মূলত দুটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে। প্রথম ধাপে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে, যার অধীনে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে। এর মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ এবং নতুন করে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দ্বিতীয় ধাপে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ভবিষ্যৎ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করে রাখা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।

আরাগচি আরও উল্লেখ করেন, হরমুজ প্রণালী ইরান ও ওমানের সার্বভৌমত্বেই থাকবে, তবে এর ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা অতীতের চেয়ে ভিন্ন হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি গভীর অনাস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, প্রাথমিক খসড়াটি এখনও তেহরানে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক্সে কিছুটা রহস্যময়ী বার্তায় লিখেছেন, যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। কোনো যদি বা কিন্তু কিংবা অজুহাত চলবে না। সামনে যে চুক্তি রয়েছে, তার জন্য এর বাইরে কোনো পথ নেই। যেমন কর্ম, তেমন ফল।

অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও সুর কিছুটা ভিন্ন। একজন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘চুক্তিটি এখনও ফিনিশিং লাইনে পৌঁছায়নি, তবে আমরা খুব কাছাকাছি আছি।’ তিনি জানান, প্রথম ধাপের সমঝোতায় ইরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে দিতে এবং সমস্ত পারমাণবিক সামগ্রী হস্তান্তর করতে হবে। এর বিনিময়ে ‘উল্লেখযোগ্য’ নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং সম্পদ অবমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের বক্তব্যের সূত্র ধরে ওই কর্মকর্তা পরিষ্কার করে দিয়েছেন, চুক্তি সই হওয়ামাত্রই ইরান কোনো অর্থ বা সুবিধা পাবে না। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অবরুদ্ধ তহবিল ছাড়ের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে চুক্তির শর্ত ইরান কতটা মেনে চলছে তার ওপর।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা চুক্তির যে সাতটি পয়েন্ট প্রকাশ করেছিল, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানি গণমাধ্যমের দাবি ছিল— পরমাণু কর্মসূচি বা হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান কোনো ছাড় দেয়নি। ট্রাম্প একে ‘ভুয়া খবর’ আখ্যা দিয়ে অ্যাক্সিওস নিউজকে বলেন, ইরান ইতিমধ্যেই এই ভুল তথ্য ছড়ানোর জন্য ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চেয়েছে। ট্রাম্প এখনও আশাবাদী যে, চলতি সপ্তাহের শেষেই এই ঐতিহাসিক চুক্তি সই হতে পারে।

উল্লেখ্য, এই কূটনৈতিক তৎপরতার ঠিক দুদিন আগেই গত ৮ এপ্রিল থেকে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ট্রাম্প একপর্যায়ে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ দখল করারও হুমকি দিয়েছিলেন, যদিও পরে আলোচনার স্বার্থে হামলা স্থগিত করেন। হোয়াইট হাউজের স্পষ্ট বার্তা— ইরানকে পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস করতে হবে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি বা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করতে হবে; তবেই মিলবে অবরুদ্ধ তহবিল।

তেহরান থেকে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করতে ইরানের সামরিক সদর দফতর, রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC), পার্লামেন্ট এবং সবশেষে সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদন প্রয়োজন, যা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। ফলে বিশ্ব এখন চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।

/কহু


  বিষয়:   ইরান  যুক্তরাষ্ট্র  চুক্তি 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: