চট্টগ্রামে জাতীয় ক্রিকেট দলের উদীয়মান স্পিনার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে আটক, নির্মম শারীরিক নির্যাতন ও হেনস্তার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন দেশের ক্রিকেট অঙ্গনের তারকারা। অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যক্কারজনক এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং সতীর্থ নাঈমের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে সোচ্চার হয়েছেন মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, তাসকিন আহমেদ, লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের মতো জাতীয় দলের শীর্ষ ক্রিকেটাররা। প্রত্যেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পৈশাচিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন।
মুশফিকুর রহিম ফেসবুকে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নাঈমের সঙ্গে যা ঘটেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান। যা ঘটেছে, তা তাকে ব্যথিত ও লজ্জিত করেছে। একজন নাগরিক এবং বাংলাদেশি হিসেবে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি নাঈমের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান ও সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল জানান, নাঈম হাসানের সঙ্গে গত রাতে যা হয়েছে, কোনোভাবেই তা গ্রহণযোগ্য নয়। রাতে নাঈম তাকে ফোন করার পর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যা যা করা দরকার, তা করার চেষ্টা করেছেন তিনি এবং অন্য বোর্ড পরিচালকরা। সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় কথা বলার পাশাপাশি নাঈম ও তার পরিবারের সঙ্গেও নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন তারা। বিসিবির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে এবং এরপর আরও যা যা করণীয় আছে, তার সবকিছুই করার আশ্বাস দেন তিনি।
পেসার তাসকিন আহমেদ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানের সাথে পুলিশের এমন ন্যক্কারজনক ঘটনার তিনি তীব্র নিন্দা জানান। একই সাথে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন।
লিটন কুমার দাস নাঈমকে মাথা উঁচু রাখার পরামর্শ দিয়ে বলেন, নাঈম একজন চমৎকার মানুষ এবং তার সাথে যা ঘটেছে তা গভীরভাবে উদ্বেগজনক ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তাকে এমন একটি অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে দেখা হৃদয়বিদারক। একজন সহকর্মী এবং সতীর্থ হিসেবে তিনি এই ঘটনায় সত্যিই মর্মাহত। এই দেশের কোনো নাগরিকই এমন আচরণের যোগ্য নয়, একজন জাতীয় ক্রিকেটার তো দূরের কথা, যিনি গর্বের সাথে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি দ্রুত একটি সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার আশা করেন।
মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, নাঈম হাসানের সঙ্গে চট্টগ্রামে ঘটে যাওয়া মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয়, দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক। একজন জাতীয় খেলোয়াড়ের সঙ্গে এমন আচরণ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের মর্যাদার ওপর আঘাত। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, সাভারের বিকেএসপিতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে শুক্রবার রাতে বিমানযোগে চট্টগ্রামে পৌঁছান নাঈম। বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের টোল প্লাজা এলাকায় খুলশী থানা পুলিশের একটি টিম তাকে ডিবি পরিচয়ে আটকে রেখে লাঠি ও পাইপ দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করে। নাঈম নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও কলার চেপে ধরে তাকে আসামি বলে গালিগালাজ করা হয় এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়।
এই জঘন্য ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নাঈমের ভাই সাব্বির হাসান বাদী হয়ে খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পরই পুলিশের সোর্স সোহেলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে চরম অপেশাদার আচরণের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় আজ শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও কনস্টেবল রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্রিকেটারের পরিবারের পূর্ণ নিরাপত্তা ও পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
/কহু