যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের প্রতিবাদে ডাকা কর্মবিরতির কারণে পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে পণ্য খালাস বন্ধ থাকলেও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক রয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মবিরতি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের কর্মবিরতির ফলে বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এতে বন্দরে পণ্যজট সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আহরণেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে গত শুক্রবার (১২ জুন) বেনাপোল বন্দরের শ্রমিক প্রতিনিধিরা বন্দরের পরিচালকের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানানো হয়। তবে দাবিগুলোর বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান শ্রমিক নেতারা।
বেনাপোল বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহীদ আলী বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়োগ দেওয়া ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে কোনো চুক্তি করেনি। একই সঙ্গে শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় ও কার্যকর যোগাযোগও বজায় রাখা হয়নি। এছাড়া শ্রমের ন্যায্য মূল্য দেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য খালাসে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে না। বিষয়টি একাধিকবার মৌখিক ও লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত, নিরাপদ পণ্য খালাসের সরঞ্জাম সরবরাহ এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এদিকে শ্রমিকদের কর্মবিরতির ঘোষণায় ব্যবসায়ী, আমদানিকারক ও রফতানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিল্পকারখানার কাঁচামাল সরবরাহেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, এ কর্মবিরতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন পচনশীল পণ্য ও কাঁচামাল আমদানিকারক ব্যবসায়ীরা। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দফতর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, পণ্য খালাস বন্ধ থাকলে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম সচল থাকলেও ব্যবসায়ীদের তেমন কোনো সুফল মিলবে না। কাস্টমস ও বন্দরে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের দাবি বিবেচনা করে দ্রুত পণ্য খালাস কার্যক্রম চালুর জন্য তিনি বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানান।
বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জহীর রায়হান বলেন, বেনাপোল বন্দর থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কর্মবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হলে রাজস্ব আয়ে বিরূপ প্রভাব পড়বে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, শ্রমিকদের দাবি-সংবলিত আবেদনটি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
/এসএকে