হেক্সা মিশনের শুরুটা মোটেও আশানুরূপ হয়নি ব্রাজিলের। নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। যেখানে সেলেসাওদের মূল লক্ষ্য হেক্সা জয়, সেখানে প্রথম ম্যাচেই ড্র! তবে সেই পথে কি ঠিকমতো এগোতে পারছে? প্রথম দিনেই তো হাঁটার পথে কাঁটা বিছিয়ে দিয়েছে মরক্কো। এতে পরিষ্কার হয়ে গেছে তাদের দুর্বলতা। টুর্নামেন্টের শুরুতে যখন নিজেদের দুর্বলতা জেনে এগিয়ে চলা যায়, তখন পরিকল্পনা করতেও বেশ সহজ হয়। যেমন মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করার ম্যাচে ভুল হতে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাবে সামনের দিকে। এই ম্যাচে তবে কি কি ভুল ছিল ব্রাজিলের? সেটাই একটু দেখে নেয়া যাক-
ভঙ্গুর ডিফেন্স : দলে আছেন সময়ের অন্যতম সেরা দুই ডিফেন্ডার মার্কুইনহোস ও গ্যাব্রিয়েল। অথচ তাদের মাঝে সঠিক বোঝাপড়া নেই। যার ফলে ব্রাজিলের চেয়েও বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল মরক্কো। তাদের ভুল বোঝাপড়ায় ২১ মিনিটে গোল হজম করে ব্রাজিল। ব্রাহিম দিয়াজ নিজেদের হাফ থেকে বল বাড়িয়ে দেন সাইবারির উদ্দেশ্যে। দুজনের মাঝখান দিয়ে বল গেলেও, কেউই সেটা আটকাতে পারেনি। এই ম্যাচে যেমন সেন্ট্রাল ডিফেন্সের ভুল ছিল চোখে পরার মতো, তেমনি রাইট ব্যাকে পারফর্ম করতে পারেনি ইবানেজ! তাকে বার বার বোকা বানিয়ে আক্রমণে গেছেন এল খান্নউস ও সাইবারি।
অগোছালো মাঝমাঠ : ডিফেন্সে যতটা দুর্বলতা ছিল, তার চেয়েও বেশী ছিল মাঝমাঠে। এখানে অবশ্য ব্রাজিলকে একাই নাচিয়ে বেড়ান আইয়ুব বৌয়াদ্দি। ক্যাসেমিরোকে এতটাই বোকা বানিয়েছেন, যে বাধ্য হয়েই তাকে হাফ টাইমে উঠিয়ে নেন আঞ্চেলত্তি। অথচ কে বলবে, ১৮ বছর বয়সি এই ফুটবলার দুদলের একাদশে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়?
নিষ্প্রভ আক্রমণ : বার্সেলোনায় পুরো মাঠ একাই মাতিয়ে ফেলেন রাফিনহা, অথচ বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে খুঁজে পাওয়া যায়নি তাকে। পুরো সময় তাকে পকেটে পুরে রাখেন আশরাফ হাকিমি। ১১ বারের চেষ্টায় মাত্র ৩ বার সফল হন ডুয়েল জিতে নিতে। ইপিএলে ২য় সর্বোচ্চ গোলদাতা থিয়াগো ইগোরকেও দেখে মনে হচ্ছিল তিনি বিশ্বকাপের মত বড় আসরের চাপ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। একমাত্র ভিনিসিয়াস ছাড়া কেউই পারেনি প্রতিপক্ষের উপর প্রভাব ফেলতে।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে না হারলেও, দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে ভালো করেই। যাদের লক্ষ্য বিশ্বকাপ জয় করা, তাদেরকে শীঘ্রই ঘুরে দাঁড়ানো লাগবে এখান থেকে।
/কেএইচও