তীব্র তাপপ্রবাহ, ঝড় ও বৃষ্টিতে খোলা আকাশের নিচে কাজ করা মানুষের দুর্ভোগ এখন কিছুটা কমেছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্মিত ‘শীতল ছায়া’ গোলঘরগুলো রোদে পোড়া কৃষক, শ্রমিক, নৌযাত্রী ও পথচারীর জন্য এখন নির্ভরযোগ্য আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। পাশেই স্থাপিত নলকূপ থেকে নিরাপদ সুপেয় পানিও পাচ্ছেন তারা।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘবে এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, জেড জুরিখ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইডের সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণউন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) বাস্তবায়িত ‘জুরিখ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৭টি শীতল ছায়া গোলঘর ও জলবায়ু সহনশীল নলকূপ নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় কাপাসিয়া ইউনিয়নের উজান বুড়াইল ও কছিম বাজার খেয়াঘাটে ২টি, বেলকা ইউনিয়নের কিশামত সদর এলাকায় ১টি, হরিপুর ইউনিয়নের কানি চরিতাবাড়ী এলাকায় ২টি, ছাপড়হাটী ইউনিয়নের পশ্চিম ছাপড়হাটী এলাকায় ১টি এবং তারাপুর ইউনিয়নের চর খোর্দা এলাকায় ১টি গোলঘর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি স্থাপনার পাশে একটি করে জলবায়ু সহনশীল নলকূপও স্থাপন করা হয়েছে। মূলত নদীর ঘাট, বাজার ও জনবহুল এলাকাগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে স্থানগুলো নির্বাচন করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গ্রীষ্ম মৌসুমে খেয়াঘাট ও বাজারে দীর্ঘ সময় রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। কৃষক, দিনমজুর, জেলে, ভ্যানচালক ও নৌযাত্রীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেতেন। পানির তেষ্টা মেটাতে অনেক সময় অনিরাপদ উৎসের পানি পান করতে বাধ্য হতেন তারা। এখন শীতল ছায়া গোলঘরগুলো রোদ-ঝড়-বৃষ্টি সব পরিস্থিতিতেই তাদের বিশ্রাম ও নিরাপদ পানির ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ এখন উত্তরাঞ্চলের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খোলা পরিবেশে কাজ করা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। সেই বিবেচনায় ছায়াযুক্ত বিশ্রামকেন্দ্র ও নিরাপদ পানির এই ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিটি গোলঘর নির্মাণে নলকূপসহ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা।
গণউন্নয়ন কেন্দ্রের প্রজেক্ট অফিসার মোছা. ডলি সুলতানা বলেন, তাপপ্রবাহ ও ঝড়-বৃষ্টি থেকে কমিউনিটির মানুষকে সুরক্ষা দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাপপ্রবাহের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে খোলা পরিবেশে কাজ করা মানুষ ও পথযাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, বিশ্রাম ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, নৌকাঘাটে নারীদের বসার আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় গর্ভবতী মা, দুগ্ধদানকারী মা, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তাপপ্রবাহজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই প্রকল্পের আওতা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তারাপুর ইউনিয়নের চর খোর্দা গ্রামের বাসিন্দা মকবুল হোসেন বলেন, মাঠে কাজ করতে গিয়ে প্রচণ্ড গরমে অনেক সময় অসুস্থ হয়ে পড়ি। এখন কাছেই বিশ্রাম নেওয়ার জায়গা থাকায় কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি। এ ধরনের উদ্যোগ আরও বেশি জায়গায় নেওয়া দরকার।
কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটিকাপিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রাজা মিয়া বলেন, আমাদের এলাকার নৌকাঘাটে বসার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। গরমে রোদে দাঁড়িয়ে নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে হতো। এখন ছায়ায় বসে বিশ্রাম নেওয়া যাচ্ছে, নিরাপদ পানিও পাওয়া যাচ্ছে। এটি সত্যিই উপকারী একটি উদ্যোগ।
সময়ের আলো/জেডি