জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ১ মাস ১২ দিন আগে এক তরুণ উন্নত জীবনের আশায় রাশিয়ায় গিয়ে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার (১৪ জুন) তার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারজুড়ে শুরু হয় শোকের মাতম।
নিহতের নাম মো. মাফল (২২)। উপজেলার ২ নম্বর কড়ইচড়া ইউনিয়নের চর গুজামানিকা গ্রামের বানু মিয়ার ছেলে।
মাফলের স্বজনদের অভিযোগ, তাকে ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। নিহতের চাচা আনিস আকন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জীবিকার তাগিদে দেড় মাস আগে একটি এজেন্সির মাধ্যমে আমার ভাতিজা রাশিয়ায় গিয়েছিল। তাকে বলা হয়েছিল রাজমিস্ত্রির কাজ দেওয়া হবে। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর তাকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠানো হয়। সেই যুদ্ধক্ষেত্রেই ড্রোন হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৯ মের পর থেকে মাফলের সঙ্গে তাদের সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে মাফল ফোনে বেশ কয়েকবার কান্নাকাটি করে জানিয়েছিলেন, তাকে যে কাজের কথা বলে নেওয়া হয়েছিল সেই কাজ দেওয়া হয়নি। উল্টো তাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে। সে সময় তিনি পরিবারের সবার কাছে দোয়াও চেয়েছিলেন।
নিহতের বোন আছিয়া খাতুন জানান, শুধু মাফল একাই নন, তার ভাইসহ প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশি যুবক একসঙ্গে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সেখানে পৌঁছানোর পরই তাদের সবাইকে জোর করে আর্মি ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আমার ভাই ওখান থেকে ফিরে আসার জন্য অনেক আকুতি-মিনতি করেছিল, কিন্তু কেউ তার কথা শোনেনি। এখন আমাদের একটাই দাবি, সরকার যেন আমার ভাইয়ের লাশটা দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে।
মাফলের ভাই আশরাফুল ইসলাম বলেন, ভাইকে তো আর ফিরে পাব না। সরকারের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে তার মরদেহটি যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এই বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, রাশিয়ায় ড্রোন হামলায় এক যুবকের মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। ইতোমধ্যেই নিহত তরুণের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র সংগ্রহ করে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়ের আলো/জোই