গ্রীষ্মের শুরুতেই ঝালকাঠিতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিদিন জেলা সদর হাসপাতালে ভিড় করছেন নতুন নতুন আক্রান্ত রোগী। পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ শহরের বিশেষ ৭টি এলাকাকে ‘ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ’ বা রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত জেলা জুড়ে দুই শতাধিক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সাধারণত জুন ও জুলাই মাসের বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এবার মৌসুমের শুরুতেই ডেঙ্গু হানা দিয়েছে। সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের একটি বড় অংশই শহরের ৭টি নির্দিষ্ট এলাকার বাসিন্দা। উল্লেখ্য, ঝালকাঠি পৌরসভার মোট জনসংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার, যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ এই ৭টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করছেন।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধনে পৌরসভার দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা নেই।
শহরের কাঠপট্টি এলাকার বাসিন্দা মিজান হোসেন বলেন, সড়কের বেশিরভাগ খানাখন্দে পানি জমে থাকছে। ড্রেন ও নর্দমা পরিষ্কার না করায় সামান্য বর্ষাতেই পানি আটকে মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে।
বাঁশপট্টি এলাকার করিম হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পৌরসভার ভেতরে থাকা ৭টি খাল সারা বছরই ময়লা-আবর্জনায় ঠাসা থাকে। মাঝে মাঝে লোক-দেখানো পরিষ্কার অভিযান চালানো হলেও তাতে কোনো লাভ হয় না। ফলে প্রতিবছরই খালের আশপাশের এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে।
রিড রোড এলাকার সুভাষ বিশ্বাস জানান, মশক নিধনে পৌরসভার কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। ঘরে-বাইরে মশার যন্ত্রণায় সাধারণ মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত।
ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর অবশ্য এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি এখনও চরম শঙ্কাজনক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি। সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে এবং বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
এদিকে, সম্প্রতি ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন। তিনি জানান, চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ স্পটগুলোতে দ্রুত মশক নিধন স্প্রে এবং বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে পৌরসভাকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
সময়ের আলো/জোই