দারিদ্র্য ও বিতর্ক জয় করে বিশ্বমঞ্চে আইভরি কোস্টের নতুন নায়ক

আরমান মুকুল

খেলা

পশ্চিম আফ্রিকা থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার তরুণ ইউরোপের পথে পা বাড়ায় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। কারও চোখে থাকে বড়

2026-06-16T03:23:17+00:00
2026-06-16T03:43:15+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬,
২ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
খেলা
দারিদ্র্য ও বিতর্ক জয় করে বিশ্বমঞ্চে আইভরি কোস্টের নতুন নায়ক
আরমান মুকুল
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ৩:২৩ এএম  আপডেট: ১৬.০৬.২০২৬ ৩:৪৩ এএম  (ভিজিট : ১৫)
আমাদ দিয়ালো। ছবি : সংগৃহীত
পশ্চিম আফ্রিকা থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার তরুণ ইউরোপের পথে পা বাড়ায় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। কারও চোখে থাকে বড় ক্লাবের জার্সি, কারও কল্পনায় থাকে স্টেডিয়ামের আলো। কিন্তু বাস্তবতা সবসময় সেই স্বপ্নের মতো সহজ হয় না। অনেকেই পড়েন জটিল প্রতারণা ও মানব পাচার চক্রে, কেউ হারিয়ে যান অনিশ্চয়তায়, আবার কেউ ফিরে আসেন শূন্য হাতে স্বপ্নভাঙা এক বাস্তবতা নিয়ে। এই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই উঠে আসেন আমাদ দিয়ালো। একজন ফুটবলার, যার গল্প একই সঙ্গে অনুপ্রেরণার এবং বিতর্কের।

আইভরিকোস্টের রাজধানী আবিদজানে জন্ম নেওয়া দিয়ালো বড় হয়েছেন দারিদ্র্য আর সংগ্রামের মধ্যে। শৈশব থেকেই জীবনের প্রতিটি ধাপ ছিল লড়াইয়ের। ফুটবলই ছিল তার একমাত্র আশ্রয়, একমাত্র মুক্তির পথ। মাত্র ১০ বছর বয়সে তার ভাইয়ের সঙ্গে ইউরোপে পাড়ি জমান একটি জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, যেখানে জাল নথিপত্র ও ভুয়া পারিবারিক ভিসা ব্যবহার করে। তবে এসব বিতর্ক দিয়ালোর ফুটবল প্রতিভাকে থামাতে পারেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজেকে আরও শক্ত করে গড়ে তোলেন। 

আবিদজানের ঘনবসতিপূর্ণ আজিদাম এলাকায় স্থানীয় কোচ হামেদ মামাদু ত্রাওরে প্রথম তার ভেতরের সম্ভাবনা খুঁজে পান। ছোটবেলায়ই তার পায়ের নিয়ন্ত্রণ, গতি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অন্যদের থেকে আলাদা ছিল। এরপর স্থানীয় ক্লাব লিডার ফুটে যোগ দিয়ে দ্রুতই নজর কাড়েন। ২০১৫ সালে ইউরোপে পাড়ি জমান দিয়ালো। এই ধাপ ছিল তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়। ইউরোপে এসে তিনি ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন নিজের ক্যারিয়ার। আতালান্তার একাডেমিতে উন্নতির পর ২০১৯ সালে সিরি আ’তে অভিষেক হয় তার, আর অভিষেক ম্যাচেই গোল করে জানিয়ে দেন, তিনি শুধু সম্ভাবনা নন, বাস্তব প্রতিভা।

এই পারফরম্যান্সই তাকে নিয়ে যায় ইংল্যান্ডে। ২০২১ সালে প্রায় ৩৭ মিলিয়ন পাউন্ডে তাকে দলে ভেড়ায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। তখন অনেকেই তাকে ভবিষ্যতের সুপারস্টার হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে শুরুটা ছিল কঠিন। প্রতিযোগিতামূলক স্কোয়াড, অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ভিড় এবং নিয়মিত সুযোগের অভাব। সব মিলিয়ে তিনি খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। ধারে খেলতে যেতে হয় রেঞ্জার্স এবং পরে সান্ডারল্যান্ডে। অনেকের চোখে তখন তার ক্যারিয়ার অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছিল।

কিন্তু এখান থেকেই শুরু হয় তার মানসিক পরিবর্তন। এই সময়টায় তিনি শিখেন ধৈর্য, পরিশ্রম এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখার গুরুত্ব। মাঠের বাইরে থেকে তিনি নিজের খেলাকে আরও পরিণত করেন, শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেকে তৈরি করেন নতুনভাবে। শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফিরে এসে নিজের জায়গা পুনরুদ্ধার করেন দিয়ালো। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই ধারাবাহিকতার ফলই তাকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বমঞ্চে, আইভরিকোস্ট জাতীয় দলে।

২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘ই’-তে ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচে যখন খেলা প্রায় ড্রয়ের দিকে যাচ্ছিল, তখনই ইনজুরি সময়ের শেষ মুহূর্তে বল পান দিয়ালো। চাপ, উত্তেজনা আর কোটি দর্শকের সামনে এক মুহূর্তের সিদ্ধান্ত নিয়ে, নিখুঁত শটে জালে জড়িয়ে দেন বল। ১-০ গোলে জিতে যায় আইভরিকোস্ট। সেই গোলই হয়ে ওঠে ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেওয়া মুহূর্ত। স্টেডিয়ামে তখন উল্লাস, আর মাঠের ভেতরে এক তরুণ ফুটবলারের চোখে দীর্ঘ পথচলার প্রতিচ্ছবি।

আবিদজানের আজিদাম থেকে বিশ্বকাপের আলো। আমাদ দিয়ালোর যাত্রা শুধু ফুটবলের গল্প নয়। এটি দারিদ্র্য, বিতর্ক, সংগ্রাম এবং অদম্য মানসিক শক্তির এক বাস্তব দলিল। যেখানে প্রতিভা শুরুটা দেয়, কিন্তু লড়াইই তৈরি করে চূড়ান্ত পরিচয়।

আরবিএন


  বিষয়:   আমাদ দিয়ালো  আইভরি কোস্ট 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: