ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ঘিরে চলমান নেতৃত্ব সংকটের মধ্যেই তার পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইনফান্তিনোকে সভাপতির পদ থেকে সরানোর চেষ্টা ঠেকাতে ট্রাম্প ‘সবকিছু করবেন’।
সম্প্রতি বিশ্বকাপসহ ফিফার বাণিজ্যিক সম্পদের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের (প্রায় ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড) পরিকল্পনা ব্যাপক বিরোধিতার মুখে পড়ে। শেষ পর্যন্ত গত শনিবার সেই পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন ইনফান্তিনো। এরপর থেকেই তার পদত্যাগের দাবি এবং নেতৃত্ব পরিবর্তনের আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
দ্য টেলিগ্রাফের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজন সফল করতে ইনফান্তিনোর ভূমিকার কারণে তার প্রতি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আস্থা তৈরি হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, জিয়ান্নি আমাদের ইতিহাসের সেরা বিশ্বকাপ আয়োজন করতে অনেক সাহায্য করেছেন। প্রেসিডেন্ট তাকে খুবই পছন্দ করেন। আমি নিশ্চিত, তাকে সহায়তা করতে প্রেসিডেন্ট সম্ভাব্য সবকিছুই করবেন। তিনি একজন বিশ্বস্ত মানুষ, আর বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করেছেন। আমরা সেটির মূল্য দিই।
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর আসে, নিজের অবস্থান শক্ত করতে ইনফান্তিনো মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের চেষ্টা করছেন। তবে ফিফা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর এমন তথ্য অস্বীকার করেছে।
ফিফার এক মুখপাত্র বলেন, সম্প্রতি ফিফা সভাপতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বা তার প্রশাসনের কোনো সদস্যকে ফোন করেননি। এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নতুন নয়। ২০১৮ সালে প্রথম বৈঠকেই ইনফান্তিনো ট্রাম্পকে প্রতীকী লাল ও হলুদ কার্ড উপহার দেন। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে ফিফা ‘পিস প্রাইজ’ এবং একটি স্মারক ট্রফিও দেন তিনি।
তবে ইনফান্তিনোর জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার নেতৃত্বে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সমর্থন গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকার বিক্রির পরিকল্পনার প্রতিবাদে উয়েফা আগেই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বয়কটের হুমকি দিয়েছিল। পরে ইনফান্তিনো পরিকল্পনা প্রত্যাহার করলে সেই সংকট সাময়িকভাবে প্রশমিত হয়।
ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) ইতিমধ্যে ইনফান্তিনোর প্রতি দেওয়া সমর্থন প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিয়েছে। একই পথে হেঁটেছে ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএডব্লিউ)। এক বিবৃতিতে এফএডব্লিউ জানিয়েছে, ২০২৭-২০৩১ মেয়াদের জন্য ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের প্রতি তাদের সমর্থন আর নেই।
বিবৃতিতে বলা হয় - সুশাসন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নেতৃত্ব, মূল্যবোধ, অংশীজনদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং যোগাযোগ। সব ক্ষেত্রেই সাম্প্র্রতিক ব্যর্থতার কারণে আমরা মনে করি, বিশ্ব ফুটবলের নেতৃত্বে থাকার মতো আস্থা তিনি হারিয়েছেন।
এদিকে ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, নরওয়ে ও সুইডেনসহ কয়েকটি ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের বিরোধিতা করেছে। তবে আফ্রিকা ও এশিয়ার বেশিরভাগ সদস্য দেশ এখনো প্রকাশ্যে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়নি।মরক্কো, কাতার, শ্রীলঙ্কা ও লেবানন ইতিমধ্যে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
ফিফার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট আয়োজন করতে হলে অন্তত তিন মাস আগে নোটিস দিতে হয়। তাই ইনফান্তিনোবিরোধী জোট গঠনে সময়ের গুরুত্বও বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পদটি ধরে রাখতে ইনফান্তিনো কতটা সফল হবেন, নাকি ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে নেতৃত্ব ছাড়তে বাধ্য হবেন। সেই প্রশ্নই এখন ফুটবল অঙ্গনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি