মেহেরপুরের গাংনী পৌরসভার ডাম্পিং স্টেশনের বর্জ্য থেকে তৈরি কম্পোস্ট সার সাড়া ফেলেছে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে। পৌর এলাকার বসতবাড়ির ও বিভিন্ন বর্জ্য থেকে প্রতি মাসে প্রস্তুত করা হচ্ছে ৪০০ কেজি জৈবসার। আগামীতে অধিক পরিমাণ সার প্রস্তুত করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। শুধু তাই নয়, বর্জ্য থেকে প্লাস্টিক জাতীয় পণ্য আলাদা করে তা কাজে লাগানো সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
এ প্রসঙ্গে ডাম্পিং সেন্টারের দায়িত্বে থাকা গাংনী পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী রাজু আহম্মেদ বলেন, প্রতিদিনই শহরে বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয়। এগুলো যেখানে সেখানে না ফেলে বেশ চমৎকার এক কাজে ব্যবহার করা যায়। সেটা হলো কম্পোস্ট সার তৈরি করা। সব ধরনের জৈবিক পদার্থই একসময় ধীরে ধীরে পচে যেতে শুরু করে। আর এই পচনের জন্য মূলত দায়ী কিছু বিশেষ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া ও কিছু জীবাণু। পচে যাওয়া এসব পদার্থ ঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করা গেলে তা মিশ্র সার হিসেবে খুব ভালো কাজে দিতে পারে। পৌরসভা একইভাবে কম্পোস্ট সার তৈরি করছে বলেও জানান গাংনী পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী রাজু আহম্মেদ।
এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়র রহমান বলেন, পৌর এলাকার বর্জ্য দিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ যে সার উৎপন্ন করছেন সেটি কৃষি ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মতিয়র রহমান আরও বলেন, এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হলে কৃষকরা আরও বেশি উপকৃত হবেন এবং স্বল্প খরচে ভালো ফসলও উৎপাদন করতে পারবেন।
জানা গেছে, গাংনী পৌর এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিটি পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টিকের ডাস্টবিন রাখা আছে। সেখানে শহরবাসী ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখেন। প্রতিদিন সকালে সেই আবর্জনা ডাম্পিং স্টেশন জমা করা হয়। মাত্র দুজন শ্রমিক ওই আবর্জনা থেকে প্লাস্টিক ও অন্যান্য উচ্ছিষ্ট অংশ আলাদা করেন। পরে গ্রাইন্ডার মেশিনের মাধ্যমে কম্পোস্ট সার প্রস্তুত করা হয়।
মেহেরপুর একটি কৃষিপ্রধান জেলা। তাই এখানে রাসায়নিক সারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে এ ডাম্পিং সেন্টারে জৈবসার উৎপাদন করা সম্ভব হলে এ উপজেলায় রাসায়নিক সারের চাহিদা কমবে। এলাকার সবজি চাষিরা এই সার নিয়ে বিষমুক্ত সবজি আবাদ করে বেশি লাভবান হবেন। অন্যদিকে শহরবাসী ময়লা ও আবর্জনা মুক্ত পরিবেশে বসবাস করতে পারছেন। প্রতিদিন ৩ টন বর্জ্য জমা হয় ডাম্পিং স্টেশনে। আগামীতে আরও বর্জ্য জমা হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ জৈব সার উৎপন্ন হবে।
সাহারবাটির গ্রামের সবজিচাষি সাবান আলী জানান, কম্পোস্ট সারের সবচেয়ে বড় উপকার হলো এটি সব ধরনের সবজি ও গাছে ব্যবহার করা যায়। কম্পোস্ট সার প্রয়োগের ফলে মাটির উর্বরতাও বেড়ে যায়। এ ছাড়া কম্পোস্ট সার যেসব গাছের জন্য ব্যবহার করা হয় সেসব গাছ রোগে কম আক্রান্ত হয়। একই কথা জানান কৃষক আলভীসহ স্থানীয় কয়েকজন।
আরবিএন