কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার অসাধারণ নৈপুণ্যে আটকে গেল স্পেন। ম্যাচের শেষ দিকে ফল বের করার মরিয়া চেষ্টা হিসেবে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বাধ্য হয়ে তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামালকে মাঠে নামান। তবে তার উপস্থিতিতেও স্পেনের ভাগ্য বদলায়নি, বরং আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে গোলের সামনে তাদের অসহায়ত্ব।
পুরো ম্যাচজুড়ে স্পেন ছিল আক্রমণাত্মক, বল দখল ও সুযোগ তৈরিতেও এগিয়ে। কিন্তু কেপ ভার্দের রক্ষণভাগ এবং বিশেষ করে ৪০ বছর বয়সী ভোজিনিয়া যেন হয়ে ওঠেন এক অপ্রতিরোধ্য দেয়াল। একের পর এক নিশ্চিত গোলের সুযোগ ঠেকিয়ে তিনি স্পেনের ফরোয়ার্ডদের হতাশায় ডুবিয়ে দেন। ম্যাচজুড়ে অন্তত সাতটি পরিষ্কার গোলের সুযোগ নষ্ট হয়, যার বড় অংশই রুখে দেন এই গোলরক্ষক নিজেই।
প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধ মিলিয়ে স্পেন বারবার আক্রমণে উঠলেও ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা এবং ভোজিনিয়ার অসাধারণ রিফ্লেক্স তাদের এগিয়ে যেতে দেয়নি। বিশেষ করে ফার্নান তোরেস ও অন্যান্য ফরোয়ার্ডরা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন, ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ থেকেও গোলের ফল বের করা যায়নি।
এই পরিস্থিতিতে শেষ ২০ মিনিটে স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বড় সিদ্ধান্ত নেন। গোলের খোঁজে তিনি লামিনে ইয়ামালকে মাঠে নামান। পরিকল্পনা ছিল তরুণ এই বার্সেলোনা তারকার গতি ও সৃজনশীলতায় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া। কিন্তু ভোজিনিয়ার দৃঢ়তা ও কেপ ভার্দের সংগঠিত রক্ষণভাগ সেই পরিকল্পনাকেও ব্যর্থ করে দেয়।
ইয়ামাল মাঠে নামার পর স্পেন আক্রমণে কিছুটা প্রাণ ফিরে পেলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি তারা। বরং প্রতিবারই শেষ মুহূর্তে বাধা হয়ে দাঁড়ান ভোজিনিয়া অথবা কেপ ভার্দের ডিফেন্ডাররা। ফলে শেষ পর্যন্ত জয় ছাড়াই মাঠ ছাড়তে হয় ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের।
অন্যদিকে এই ম্যাচটি ভোজিনিয়ার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মাইলফলক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। ম্যাচের আগে যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত ছিলেন, তিনি এক রাতেই হয়ে ওঠেন বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়ার সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে এক লাফে মিলিয়ন পার হয়েছে, আর মাঠের পারফরম্যান্স তাকে পৌঁছে দেয় “ম্যাচের নায়ক” পরিচয়ে।
বয়সের হিসাবেও এই ম্যাচ ছিল ব্যতিক্রমী এক গল্প। ১৮ বছর বয়সী ইয়ামালের বিপক্ষে ৪০ বছর বয়সী ভোজিনিয়ার লড়াই ফুটবল ভক্তদের জন্য তৈরি করে এক অনন্য কাহিনি। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যে শেষ পর্যন্ত জয় হয় অভিজ্ঞতার, যেখানে ভোজিনিয়া একাই স্পেনের আক্রমণভাগকে থামিয়ে দেন।
ম্যাচ শেষে স্পেন শিবিরে হতাশা স্পষ্ট ছিল। প্রত্যাশিত জয় না পাওয়ায় গ্রুপ পর্বের সমীকরণও জটিল হয়ে ওঠে। অন্যদিকে কেপ ভার্দে শিবিরে এটি ছিল ঐতিহাসিক এক অর্জন, যেখানে তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের অভিষেকেই ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলকে রুখে দেয়।
ভোজিনিয়ার অসাধারণ পারফরম্যান্স এবং স্পেনের সুযোগ নষ্ট করার ব্যর্থতা এই ম্যাচকে পরিণত করেছে টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় চমকে।
/ইউএমএইচ