ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে ছোট ছোট কিছু পরিবর্তন পুরো ঘরের আবহ বদলে দিতে পারে। আর এই পরিবর্তনের অন্যতম ম্যাজিক টুল হলো কুশন কভার। বর্তমানে নান্দনিকতা এবং আরামের কথা মাথায় রেখে বাজারে হরেক রকমের ফেব্রিক্স ও ডিজাইনের কুশন কভার ট্রেন্ড করছে। ইন্টেরিয়র ডিজাইনে এখন কুশন কভার কেবল একটি প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ নয় বরং ঘর আকর্ষণীয় করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম।
আজকাল কুশন কভারে ফেব্রিক্সের ক্ষেত্রে চোখ ধাঁধানো বৈচিত্র্য এসেছে। গরমের দিনে ঘর ঠান্ডা ও আরামদায়ক রাখতে সুতি এবং লিনেন ফেব্রিক্সের কুশন কভারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে ঘরে একটু রাজকীয় বা লাক্সারি ভাব আনতে ব্যবহার হচ্ছে ভেলভেট, সিল্ক এবং স্যাটিন। এ ছাড়া বর্তমানের অন্যতম বড় ট্রেন্ড হলো বোহো স্টাইল, যার জন্য চট এবং মোটা ক্যানভাস ফেব্রিক্সের ওপর ম্যাক্রামে বা সুতোর কাজ করা কভারগুলো দারুণ জনপ্রিয়।
কুশন কভার ক্রেতা সানজিদা আক্তার বলেন, আমি আমার লিভিং রুমের জন্য এবার কিছু ম্যাক্রামে আর লিনেনের কুশন কভার অনলাইন থেকে কিনেছি। জাস্ট কভারগুলো বদলানোর পর পুরো ঘরের লুকটাই চেঞ্জ হয়ে গেছে। মেহমানরা এসে খুব প্রশংসা করছে।
ডিজাইনের ক্ষেত্রে এখন মিনিমালিজম বা ‘কমেই সুন্দর’ নীতিটি বেশ জনপ্রিয়। এক রঙের কুশন কভারের পাশাপাশি জ্যামিতিক নকশা, ফ্লোরাল প্রিন্ট এবং ট্র্যাডিশনাল ব্লক বা বাটিকের কাজ বেশ চলছে। তবে এখন সবচেয়ে বেশি ইনট্রেন্ড হলো ডিজিটাল প্রিন্ট, হাতে বোনা ম্যাক্রামে, ট্যাসেল বা ঝালর লাগানো কভার এবং থ্রিডি এমব্রয়ডারি। কাস্টমাইজড কুশন কভারের (যেমন কোটেশন বা ফ্যামিলি ছবি প্রিন্ট) চাহিদাও কম নয়।
সাধারণত কুশনের আকার অনুযায়ী কভারের সাইজ নির্ধারিত হয়। বাজারে সবচেয়ে বেশি চলে ১৬ বাই ১৬ ইঞ্চি এবং ১৮ বাই ১৮ ইঞ্চি স্কয়ার সাইজের কভার। বড় সোফা বা মেঝের জন্য ২০ বাই ২০ ইঞ্চি বা ২৪ বাই ২৪ ইঞ্চি সাইজ বেছে নেওয়া হয়। এ ছাড়া ইদানীং পিঠের আরামের জন্য লম্বাটে আকৃতির ১২ বাই ২০ ইঞ্চি সাইজের কুশন কভারের বেশ ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে। কুশন কভার শুধু যে সোফায় শোভা পায়, তা কিন্তু নয়। লিভিং রুমের মেইন সোফা ছাড়াও ডিভান, জানালার পাশে বসার জায়গা কিংবা ঘরের কোণে রাখা ইজি চেয়ারে কুশন রাখা যায়। বেডরুমে খাটের ওপর বালিশের পাশাপাশি ৩ বা ৪টি ভিন্ন সাইজের কুশন লেয়ারিং করে রাখলে চমৎকার দেখায়। এ ছাড়া বারান্দার রকিং চেয়ার কিংবা মেঝের কার্পেটের ওপর বড় ফ্লোর কুশন পেতে আড্ডার জোন তৈরি করা যায়।
ট্রেন্ডি কুশন কভার কিনতে চাইলে আড়ং, কারুপণ্য, জাগরণী, ড্রেসআপ, রঙপল্লী, খুঁত এবং বিভিন্ন নামি আউটলেটে যেতে পারেন। সাশ্রয়ী মূল্যে কিনতে চাইলে নিউমার্কেট, গাউসিয়া, চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট এবং মৌচাক মার্কেট সেরা অপশন। এ ছাড়া অনলাইন পেজ এবং দারাজের মতো ই-কমার্স সাইটেও এখন দারুণ সব কালেকশন পাওয়া যায়। ফেব্রিক্স ও ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে এগুলোর দাম প্রতি পিস ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ৫০০ টাকা বা তার বেশি হতে পারে। সাধারণ সুতির কভার ১৫০-৩০০ টাকায় মিললেও, ভেলভেট বা ভারী কাজের কভারগুলোর দাম ৫০০-১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত হয়।
/মহু