প্রাচীন মিসরীয়দের কাছে বিড়াল শুধু একটি গৃহপালিত প্রাণী নয়, ধর্মীয় বিশ্বাস, নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। তাদের ধারণা ছিল, বিড়ালের মধ্যে দেবতাদের শক্তি, স্নেহ, রক্ষাকবচ ও সাহসের প্রতিফলন রয়েছে। এ কারণেই দেবী বাসতেতকে প্রায়ই বিড়ালের রূপে এবং দেবী সেখমেতকে সিংহমুখী নারীরূপে চিত্রিত করা হতো।
ইতিহাসবিদ হেরোডোটাস লিখেছেন, পরিবারের কোনো বিড়াল মারা গেলে শোকের প্রকাশ হিসেবে অনেক মিসরীয় নিজেদের ভ্রু কামিয়ে ফেলতেন।
প্রত্নতাত্ত্বিকরাও মিসরে হাজার হাজার মমি করা বিড়াল এবং প্রায় দুই হাজার বছর পুরোনো পোষা প্রাণীর কবরস্থানের সন্ধান পেয়েছেন।
ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি বাস্তব কারণও ছিল। ইঁদুর ও সাপ শিকারে দক্ষ হওয়ায় বিড়াল শস্য ও ঘরবাড়ি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। ফলে প্রাণীটি মানুষের কাছে বিশেষ মর্যাদা পায়।
তবে এই শ্রদ্ধার আড়ালেও ছিল এক নিষ্ঠুর বাস্তবতা। গবেষণায় দেখা গেছে, খ্রিস্টপূর্ব ৭০০ থেকে খ্রিস্টাব্দ ৩০০ সালের মধ্যে লাখ লাখ বিড়ালছানা শুধু দেবতাদের উদ্দেশে বলি দেওয়ার জন্যই পালন করা হতো। পরে সেগুলো হত্যা করে মমি বানিয়ে উৎসর্গ করা হতো।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় একটি বিড়ালের মমির এক্স-রে স্ক্যানে দেখা যায়, প্রাণীটির বয়স ছিল পাঁচ মাসেরও কম এবং তার ঘাড় ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। গবেষকদের মতে, এটি ছিল সে সময়ের একটি সংগঠিত ধর্মীয় প্রথা। মানুষের বিশ্বাস ছিল, এভাবে দেবতাদের সন্তুষ্ট করলে তাদের আশীর্বাদ ও সুরক্ষা পাওয়া যাবে।
সময়ের আলো/এমকে