ঘুমের মধ্যে হঠাৎ চোখ খুলে গেলেও শরীর একদম নড়ছে না। মনে হচ্ছে বুকের ওপর কেউ চেপে বসে আছে, শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। অনেকেই এই অভিজ্ঞতাকে ‘বোবায় ধরা’ বা ‘নিশি’ বলে মনে করেন। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থার নাম স্লিপ প্যারালাইসিস।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের আরইএম পর্যায়ে মানুষ গভীর স্বপ্নের ভেতর থাকে। তখন শরীরের পেশিগুলো সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকে, যাতে স্বপ্নের প্রতিক্রিয়ায় শরীর নড়ে না যায়। কখনও কখনও মস্তিষ্ক জেগে উঠলেও এই পেশির অবশভাব কিছুক্ষণ থেকে যায়।
তখন মানুষ সবকিছু বুঝতে পারলেও হাত-পা নাড়াতে বা কথা বলতে পারেন না। অনেকের ক্ষেত্রে এ সময় ঘরে কারও উপস্থিতি অনুভব করা, ছায়ামূর্তি দেখা বা অদ্ভুত শব্দ শোনার মতো অলীক অভিজ্ঞতাও হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনে অন্তত একবার প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ স্লিপ প্যারালাইসিসের শিকার হন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের ঘাটতি, অনিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি এই সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
স্লিপ প্যারালাইসিস সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে দুই মিনিটের মধ্যে শেষ হয়ে যায় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী নয়। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে চোখ, আঙুল বা মুখের পেশি নাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
এ সমস্যা কমাতে নিয়মিত অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম, ঘুমানোর আগে মোবাইল বা ল্যাপটপের ব্যবহার সীমিত রাখা এবং চিত হয়ে না ঘুমিয়ে কাত হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সমস্যা ঘন ঘন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সময়ের আলো/এমকে