জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আনছার আলী নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আপন ভাতিজাসহ স্বজনদের মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং ওই দুই পরিবারের সদস্যদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে অভিভাবকহীন দুই ভাতিজার পরিবার এখন চলাচল করছে ফসলি জমি দিয়ে কখনো হাঁটুজল আর কখনো কাঁদা মাড়িয়ে।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ১নং পোড়াগাঁও ইউনিয়নের তোয়ালকুচি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। আনছার আলী পোড়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে চেয়ারম্যান প্রার্থী।
জানা গেছে, তোয়ালকুচি গ্রামের তোরাব আলীর রেখে যাওয়া মোট সাড়ে ২৭ একর জমির মধ্যে দুই বোনকে দেড় একর করে তিন একর এবং বড় ভাই আতাহার আলীকে ৭ একর জমি দিয়ে বাকী জমির পুরোটাই ভোগদখল করছেন ছোট ভাই বিএনপি নেতা আনছার আলী। আতাহার আলীর মৃত্যুর পর সম্প্রতি তার সন্তানেরা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্য জমি আপন চাচা আনছার আলীর কাছে দাবী করেন, এ নিয়েই শুরু হয় দ্বন্দ্ব।
সম্প্রতি আনছার আলী ভাতিজাদের দখলে থাকার জমির আরও কিছু অংশ দখলে নিতে চেষ্টা করলে গত ১৫ মে উভয়পক্ষে বাকবিতণ্ডা থেকে মারামারির ঘটনা ঘটে। পরে উভয়পক্ষ বাদী হয়ে নালিতাবাড়ী থানায় পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দাখিল করলেও ওই ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আবু তালেব আনছার আলীর দায়ের করা অভিযোগটি আমলে নিয়ে এজাহারভুক্ত করেন। তবে ভাতিজা জাহাঙ্গীর আলমের দায়ের করা অভিযোগটি আমলে নেননি। পুলিশের এমন পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়ে জাহাঙ্গীর আলম বাদী আদালতের শরণাপন্ন হন।
এদিকে ১৫ মে’র পর থেকে জাহাঙ্গীরদের চলাচলের একমাত্র পথ আনছার বাড়ির সামনে দিয়ে থাকায় আনছার আলী হুমকি ও বাধা প্রদান করেন। ফলে গত এক মাস ধরে উপায়ান্তর না পেয়ে জাহাঙ্গীর ও তার ছোট ভাইয়ের দুটি পরিবারের ৯ জন সদস্য ফসলি জমি দিয়ে কাঁদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করছেন। কৃষিপণ্য এমনকি রোগী আনা-নেওয়ার কাজেও এখন তাদের একমাত্র ভরসা ফসলের নিচু জমি। যা বর্ষায় কাঁদা আর পানিতে ভরে থাকে।
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমার বাবার ভাগে কম জমি দিয়ে চাচা বেশি জমি ভোগ করছেন। এখন আবার নতুন করে আরও কিছু ভিটা দখলের চেষ্টা করছেন। বাধা দিতে গেলে মারধর করে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা দিয়েছেন। অথচ আমরা মার খাওয়ার পরও পুলিশ আমাদের মামলা নেয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনছার আলী জানান, পিতার জীবদ্দশায় তার নামে ৫ একর জমি লিখে দিয়েছিলেন। পক্ষান্তরে, বড় ভাই আতাহার আলীকে লিখে দিয়েছিলেন ১ একর। ফলে উত্তরাধিকার সূত্রে বাকী জমি পাওয়ার পর তার ভাগে জমি বেশি রয়েছে। চলাচলে বাধার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি চলাচলে বাধা দেইনি। তারা ইচ্ছে করেই এ পথ দিয়ে আসে না।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। যেহেতু আরেক পক্ষ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন এবং আদালত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কাজেই এই পক্ষকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত জায়গা দিয়ে হলেও অন্যের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করার এখতিয়ার আইনে নেই। সিআরপিসি’র ১৩৩ ধারায় আইনিভাবে এর প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।
সময়ের আলো/আতা