দৈনিক সময়ের আলোতে সংবাদ প্রকাশের পর চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উপকূলীয় ছনুয়া খুদুকখালী হোছাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবদুর রশিদকে নিজ কার্যালয়ে ডেকেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) মাওলানা আবদুর রশিদ ইউএনও রুহুল আমিনের কাছে যাওয়ার সময় একটি লিখিত আবেদন নিয়ে যান। এ সময় ইউএনও রুহুল আমিন মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবদুর রশিদের কথা গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবদুর রশিদ সময়ের আলোকে জানান, ইউএনও রুহুল আমিন মহোদয় তাঁর আবেদনটি দুবার পড়েছেন। আবেদনটি তিনি মন্ত্রণালয়ে ডাক ফাইলে দেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি একটি রিসিভ কপিও নিয়ে এসেছেন।
এর আগে, রবিবার (১৫ জুন) দৈনিক সময়ের আলোর অনলাইন ভার্সনে ‘নানা সংকটে ছনুয়া হোছাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসা, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মাথায় ইউএনও রুহুল আমিনের এই হস্তক্ষেপ মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
লিখিত আবেদনে মাওলানা আবদুর রশিদ উল্লেখ করেন, বাঁশখালীর প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত ছনুয়া ইউনিয়নে উপকূলীয় ছনুয়া খুদুকখালী হোছাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসাটি অবস্থিত। বিগত ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পর সেখানে দুটি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মিত হয়। ওই আশ্রয়কেন্দ্রেই মাদ্রাসার নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
আবেদনে মাওলানা আবদুর রশিদ আরও জানান, ঘূর্ণিঝড়ের বিপৎসংকেত শুনলে এলাকার শত শত মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য গৃহপালিত পশুসহ সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, নির্মাণের পর থেকে কোনো ধরনের সংস্কার বা মেরামত না হওয়ায় ছাদে ফাটল ধরেছে এবং দরজা-জানালা নষ্ট হয়ে গেছে।
এর ফলে বর্ষা মৌসুমে অবিরত বৃষ্টির পানি পড়ায় দৈনন্দিন শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে অবস্থানরত কোমলমতি শিক্ষার্থী ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় আশ্রিত মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই জরুরি ভিত্তিতে এই ভবনের মেরামত একান্ত প্রয়োজন বলে মাওলানা আবদুর রশিদ আবেদনে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন সময়ের আলোকে জানান, শিক্ষার ক্ষেত্রে তাঁরা সব সময় আন্তরিক। মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবদুর রশিদ সকালে আবেদন নিয়ে এসেছিলেন। তিনি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন এবং আশা করছেন, খুব দ্রুতই সুখবর আসবে।
সময়ের আলো/আতা