চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিখোঁজের দুই দিন পর পাঁচ বছর বয়সী শিশু জায়হান (৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে ডিবি পুলিশ ও পটিয়া থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে দক্ষিণ গোবিন্দারখীল এলাকার একটি ময়লার ভাগাড় থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন সাইফুল, শাহানুর, নিহা, নিহান ও ওয়াসিফা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয় জায়হান। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। একপর্যায়ে পটিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
নিখোঁজের কিছু সময় পরই পরিবারের কাছে একটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া যায়। এতে শিশুটিকে ফেরত দেওয়ার শর্তে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং পরিবারের একজন সদস্যের আনলক করা মোবাইল ফোন নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যেতে বলা হয়। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। পরে তাদের দেখানো স্থান থেকেই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্বজনদের অভিযোগ, টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়েছিল। তবে ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অপহরণকারীরা তাকে হত্যা করে মরদেহ গোপনের চেষ্টা করে। তাদের দাবি, অভিযুক্তদের কয়েকজন নিখোঁজ শিশুর খোঁজে পরিবারের সঙ্গেও অংশ নিয়ে সন্দেহ এড়ানোর চেষ্টা করেছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘ভোরে একটি ডোবা সংলগ্ন এলাকা থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনার বিস্তারিত উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’
সময়ের আলো/এসএকে