কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ স্থায়ীভাবে নিজেদের হাতেই রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, এই আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহারকারী পণ্যবাহী জাহাজ ও তেল ট্যাংকারগুলোকে এখন থেকে ইরানের দেওয়া নিরাপত্তা ও নৌ-পরিষেবার ব্যয়ভার বহন করতে হবে।
গত মঙ্গলবার ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ এক বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দেন।
মোহাম্মদ রেজা আরিফ বলেন, হরমুজ প্রণালী ইরানের এবং এর ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও চিরকাল ইরানেরই থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, এই প্রণালীতে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষায় ইতিহাসজুড়ে ইরানকে বিপুল ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। ফলে এখন এই অধিকারের পূর্ণ সুবিধা ভোগ করার অধিকার তেহরানের রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষভাগে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের পর ইরান তার শত্রু রাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের জন্য হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি জাহাজ ও বন্দরে অবরোধের ঘোষণা দিলে তেহরান এই জলপথে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশই পরিবাহিত হয় এই গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ফলে গত এপ্রিল থেকে ইরানের আরোপিত এই নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে।
তবে দীর্ঘ অচলাবস্থার পর, চলতি জুনের মাঝামাঝি সময়ে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এই চুক্তির পরই সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হয় এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নৌ-অবরোধের অবসান ঘটে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট আরিফ আরও সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে ইরান নিরলসভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিয়ে যাচ্ছে। যদি এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকত, তবে জাহাজগুলো সমুদ্র মাইনের কবলে পড়াসহ ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে পড়ত। আর এ কারণেই এই জলপথ ব্যবহারকারীদের এখন থেকে নির্দিষ্ট মাশুল দিতে হবে।
সময়ের আলো/কহু