গাইবান্ধা জেলা শহরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দুটি সেতু দুই বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতু দুটি এখনো যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পরও ২০২৪ সালের জুন থেকে আজ পর্যন্ত একটি যানবাহনও এসব সেতু ব্যবহার করতে পারেনি।
অন্যদিকে, ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো সরু সেতুগুলো দিয়েই প্রতিদিন হাজারো মানুষ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।
গাইবান্ধা শহরের যানজট কমাতে এবং পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোর বিকল্প হিসেবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ দুটি নতুন সেতু নির্মাণ করে। একটি সেতু গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কের নতুন ব্রিজ এলাকায় ঘাঘট নদীর ওপর নির্মিত ‘ঘাঘট-২ সেতু’, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৬ মিটার। অপরটি গাইবান্ধা-বালাসীঘাট সড়কের পুলবন্দি এলাকায় নির্মিত ‘আলাই সেতু’, যার দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০ মিটার।
দুটি সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের শেষ দিকে এবং ২০২৪ সালের জুনে তা সম্পন্ন হয়। প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ৩০ কোটি টাকা।
তবে সেতু দুটি প্রস্তুত হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ায় এগুলো এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি।
ফলে নতুন সেতুর দুই প্রান্তে রাস্তা না থাকায় যানবাহন ওঠানামা করতে পারছে না। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা পুরোনো, সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোই ব্যবহার করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় সেতুগুলো নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। রাতের বেলায় এসব সেতুতে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।
নতুন ব্রিজ এলাকার বাসিন্দা মিঠুন মিয়া বলেন, ‘এত টাকা খরচ করে সেতু করা হয়েছে, কিন্তু আমরা কোনো সুবিধা পাচ্ছি না। রাতে এখানে কী হয়, সেটা নিয়েও উদ্বেগ আছে।’
পুলবন্দি এলাকার শাহরিয়ার রবিন বলেন, ‘নতুন সেতু চোখের সামনে, কিন্তু ব্যবহার করা যাচ্ছে না। পুরোনো ভাঙা সেতু দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।’
স্থানীয়দের আশঙ্কা, পুরোনো সেতুগুলো যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
গাইবান্ধা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিয়াস কুমার সেন জানান, সেতু নির্মাণ শেষ হলেও ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে সংযোগ সড়কের কাজ আটকে আছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে এবং দ্রুত কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তবে কবে নাগাদ সেতু দুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা যাবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি তিনি।
বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্পে এমন অচলাবস্থা নতুন নয়—সেতু নির্মিত হয়, কিন্তু সংযোগ সড়ক বা জমি অধিগ্রহণ সময়মতো না হওয়ায় প্রকল্পের সুফল সাধারণ মানুষ পায় না।
গাইবান্ধার এই দুটি সেতুও এখন সেই বাস্তবতারই উদাহরণ হয়ে আছে—যেখানে কোটি টাকার অবকাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও জনসাধারণের ব্যবহার অধরাই রয়ে গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ শেষ করা হোক, যাতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অন্তত সেতু দুটি মানুষের কাজে লাগতে পারে।
সময়ের আলো/এসএকে