গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ভূমিদস্যুদের একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই চক্রান্তের প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে সাজানো মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার রাজাবিরাট বাজারে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে মাঞ্জিহী পরিষদ।
আদিবাসী নেতাদের অভিযোগ অনুযায়ী, রাজাহার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ভাই শফিকুল এবং এলাকার পরিচিত ভূমিদস্যু উজ্জ্বল দীর্ঘদিন ধরে সাঁওতালদের জমির প্রতি লোলুপ দৃষ্টি রেখে আসছিলেন। জমি দখলের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই তারা চাঁদাবাজি ও চুরির মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়ে ২০২৫ সালের ২১ জুন গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতে মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় শ্যামবালা, সুমি সরেন, বৃটিশ সরেনসহ মোট ১৩ জন নিরীহ সাঁওতালকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এ ধরনের মামলা সাঁওতালদের জমি থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি পুরোনো কৌশল- আইনি জটিলতায় ফেলে ভয় দেখিয়ে একসময় বাধ্য করা হয় জমি ছেড়ে দিতে।
সাঁওতাল নেতা বৃটিশ সরেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন আদিবাসী নেতা রিপন বেসরা জয়, তারামনি সরেন, সাহেব মুরমু, মেরিনা সরেন, জুলিয়াস, কমলেশ সরেন, রূপ সরেন, শ্যামবালা হেমব্রম, অলিভিয়া হেমব্রম, মমতা হেমব্রম ও শিউলি হেমব্রম। এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান মইনুল এবং মানবাধিকার ও সমাজকর্মী মনির হোসেন সুইট ও রূহুল আমীন। সংহতি জানাতে উপস্থিত ছিলেন ওরাঁও সম্প্রদায়ের নেতা মিলন তিগ্যা ও আবিনা টপ্পা।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাঁওতালরা কখনোই চাঁদাবাজি বা চুরির সঙ্গে জড়িত নয় বরং তারাই বারবার ভূমিদস্যুদের চক্রান্তের শিকার হচ্ছেন। মিথ্যা মামলার ভয়ে গোটা পল্লি এখন আতঙ্কগ্রস্ত, স্বাভাবিক কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন জীবনযাপনও ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তাঁরা।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং ভূমিদস্যু চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সাঁওতাল সম্প্রদায় আরও বৃহত্তর ও কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবে।
সময়ের আলো/আতা