কাঁঠাল থেকেই তৈরি হচ্ছে বিস্কুট-চিপস, রফতানিতে কাজ করছে সরকার
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৪ পিএম
কাঁঠাল থেকে বিস্কুট তৈরির কার্যক্রম পরিদর্শন করছেন এস এম আনছারুজ্জামান। ছবি : সময়ের আলো
কাঁঠাল থেকে তৈরি বিভিন্ন খাদ্যপণ্য বিদেশে রফতানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে কাঁঠাল উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রফতানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। সঠিক নিয়ম ও মান বজায় রেখে কাঁঠাল উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাত করা গেলে, এ খাত থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব বলে জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ও হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম আনছারুজ্জামান।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বৈরাগীরচালা গ্রামে কাঁঠাল থেকে বিস্কুট তৈরির কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি কাঁঠাল থেকে বিস্কুট উৎপাদনের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
কাঁঠাল থেকে খাদ্যপণ্য তৈরি করতে দেখছেন পরিদর্শক টিম। ছবি : সময়ের আলো
এস এম আনছারুজ্জামান বলেন, ‘কাঁঠাল উৎপাদনের জন্য ইতোমধ্যে কয়েকটি খামারকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এসব খামার আরও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে, যাতে কৃষকরা গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস অনুসরণ করে কাঁঠাল উৎপাদন করতে পারেন। বিদেশে কাঁঠাল রফতানির ক্ষেত্রে বিভিন্ন মানদণ্ড ও নিয়মকানুন রয়েছে। উৎপাদন পর্যায় থেকেই সেসব নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কাঁঠালের চাহিদা বাড়ানো সম্ভব।’
তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে চীন, বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাই চীনের বাজারসহ আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁঠাল রফতানির জন্য প্রয়োজনীয় মান ও ক্রাইটেরিয়া অনুসরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কাঁঠাল থেকে ইতোমধ্যে চিপস, আচার, সবজি, পাউডারসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতে এসব পণ্যের পরিসর আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। মৌসুমে দেশে প্রচুর পরিমাণে কাঁঠাল উৎপাদিত হলেও সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের অভাবে একটি বড় অংশ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে, কৃষকরাও অনেক সময় ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন।
আনছারুজ্জামান বলেন, ‘কাঁঠাল থেকে বিস্কুটসহ বিভিন্ন ধরনের মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরি করা গেলে একদিকে অপচয় কমবে, অন্যদিকে কৃষক ও উদ্যোক্তারা লাভবান হবেন। একইসঙ্গে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এ ধরনের উদ্যোক্তাদের পাশে সরকারের সহযোগিতা সবসময় থাকবে।’
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের যুগ্ম পরিচালক মিতুল কুমার সাহা, জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক, শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা, শ্রীপুর উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন্নাহার, কাপাসিয়া উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অলিফ আহমেদ, কাঁঠাল থেকে পণ্য তৈরির উদ্যোক্তা খাদিজা খানম, কাঁঠাল থেকে বিস্কুট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মোহতাহিনা ফুড অ্যান্ড অয়েল মিলের স্বত্বাধিকারী ও চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া, ব্যবসায়ী রুহুল আমিনসহ বিভিন্ন উদ্যোক্তা।