গাজীপুরের শ্রীপুরে তৈরি হচ্ছে কাঁঠালের বিস্কুট

মেহেদী হাসান লিটন, শ্রীপুর (গাজীপুর)

সারাদেশ

দেশের জাতীয় ফল কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাঁঠাল দিয়ে বিস্কুট উৎপাদন শুরু করেছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তার।

2026-08-07T03:23:10+00:00
2026-08-07T03:23:10+00:00
 
  শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬,
২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
গাজীপুরের শ্রীপুরে তৈরি হচ্ছে কাঁঠালের বিস্কুট
মেহেদী হাসান লিটন, শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:২৩ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
দেশের জাতীয় ফল কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাঁঠাল দিয়ে বিস্কুট উৎপাদন শুরু করেছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তার। তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতিমধ্যে স্থানীয়ভাবে অফলাইন ও অনলাইন ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। উৎপাদনের শুরু থেকেই কাঁঠালের বিস্কুটের চাহিদা বাড়তে থাকায় আগামী মৌসুমে আরও বড় পরিসরে উৎপাদনের পরিকল্পনা করছেন আব্দুস সাত্তার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলা পৌর এলাকার বৈরাগীরচালা গ্রামের মোহতাহিনা ফুড কারখানায় এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদন শুরু করেন আব্দুস সাত্তার। চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০০টি কাঁঠাল ব্যবহার করে বিস্কুট তৈরি করা হয়েছে। বাজারে আসার পর থেকেই পণ্যটি অনলাইন ও অফলাইনÑ উভয় মাধ্যমে ক্রেতাদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে।

উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তারের দীর্ঘদিনের শখ বিদেশ ভ্রমণ। গত বছর চীন সফরে গিয়ে তিনি কাঁঠাল থেকে তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য দেখে অনুপ্রাণিত হন। দেশে ফিরে প্রতি বছর অবহেলায় নষ্ট হওয়া কাঁঠালের মূল্য সংযোজনের বিষয়ে ভাবতে শুরু করেন। সেই চিন্তা থেকেই এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদনের উদ্যোগ নেন। তিনি জানান, প্রতিটি বিস্কুটে প্রায় ২০ শতাংশ কাঁঠালের পাল্প ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে বিস্কুটে কাঁঠালের স্বাদ ও প্রাকৃতিক সুগন্ধ বজায় থাকছে যা প্রচলিত বিস্কুটের তুলনায় একে ভিন্নতা এনে দিয়েছে। বর্তমানে ৮০০ গ্রাম ওজনের একটি প্যাকেট ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আব্দুস সাত্তার আরও বলেন, চীন সফরে গিয়ে দেখেছি কাঁঠাল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি করা হচ্ছে। সেখান থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছি। এবার সীমিত পরিসরে কাঁঠালের বিস্কুট উৎপাদন শুরু করেছি। আগামী মৌসুমে কাঁঠাল দিয়ে আরও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, কাঁঠালের বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক। বর্তমানে দেশে কাঁঠাল দিয়ে প্রায় ৫২ ধরনের খাদ্যপণ্য তৈরি হচ্ছে এবং এর অনেকই বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। উদ্যোক্তা আব্দুস সাত্তারের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। প্রয়োজন হলে কৃষি বিভাগ থেকে তাকে সব ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন সুমাইয়া সুলতানা বন্যা।

সরেজমিন কথা হয় কাঁঠালের বিস্কুট কিনতে আসা মাহমুদুল আলমের সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, প্রথমে কৌতূহলবশত কাঁঠালের তৈরি বিস্কুট কিনেছিলাম। খাওয়ার পর এর স্বাদ ও ঘ্রাণ খুবই ভালো লেগেছে। তাই আবারও কিনতে এসেছি। এই বিস্কুটের মাধ্যমে সারা বছরই কাঁঠালের স্বাদ উপভোগ করা সম্ভব।

স্থানীয়দের মতে, কাঁঠালের মতো মৌসুমি ফলের এমন মূল্য সংযোজনমূলক উদ্যোগ একদিকে যেমন কৃষকদের উৎপাদিত ফলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে, তেমনি দেশীয় খাদ্যশিল্পে নতুন সম্ভাবনারও দ্বার খুলে দেবে।

সময়ের আলো/আআ



  বিষয়:   গাজীপুর  কাঁঠাল  বিস্কুট  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: