ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে আবারও প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে ট্রাম্প মোদিকে ‘শান্ত’, ‘ঠান্ডা মাথার’ এবং ‘ভয়ংকরভাবে দক্ষ’ বলে অভিহিত করেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখানে ‘কিলার’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে নয়; বরং রাজনৈতিক দক্ষতা, কঠোর দরকষাকষি এবং দৃঢ় নেতৃত্ব বোঝাতে ব্যবহার করা হয়েছে।
জানা গেছে, ফ্রান্সের ইভিয়ান-লে-বাঁ অঞ্চলে এক কর্মমুখর মধ্যাহ্নভোজের আগে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। প্রায় ১৬ মাস পর এটি ছিল দুই নেতার প্রথম সরাসরি মুখোমুখি বৈঠক। বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বালানি, ভিসা নীতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, নরেন্দ্র মোদি শান্ত স্বভাবের হলেও বাস্তবে তিনি অত্যন্ত দৃঢ় ও কৌশলী সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী নেতা। কঠিন আলোচনায় তিনি নিজের দেশের স্বার্থ রক্ষায় আপস করতে খুব একটা আগ্রহী নন।
বিশ্লেষকদের মতে, ‘টোটাল কিলার’ শব্দটি মোদির দরকষাকষির দক্ষতা ও রাজনৈতিক কৌশলগত শক্ত অবস্থানের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
গত কয়েক বছর ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। সম্প্রতি তিনি মোদিকে ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিনন্দন জানান এবং তাকে ‘শক্তিশালী, সুস্থ ও জ্ঞানী নেতা’ বলেও উল্লেখ করেন। তিনি ভারতীয় জনগণকে ভালোবাসেন, যুক্তরাষ্ট্রকেও ভালোবাসেন। আমরা হিউস্টনে ‘হাউডি মোদি’ আয়োজন করেছিলাম, পুরো স্টেডিয়াম ভর্তি ছিল। ভবিষ্যতে আমরা আবারও ভারত সফরে যাব।
দুই দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে একটি অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কাজ করছে। তবে শুল্কনীতি ও বাজার প্রবেশাধিকারের মতো কিছু বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
এছাড়া বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালী এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।