মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখ, আশা-নিরাশা এবং প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংকটের মুহূর্তে একজন মুমিনের সবচেয়ে বড়ো আশ্রয় আল্লাহ তায়ালার দরবার। আর সেই আশ্রয়ের অন্যতম মাধ্যম হলো দোয়া। দোয়া শুধু চাওয়া-পাওয়ার উপায় নয়, এটি আল্লাহর সঙ্গে বান্দার গভীর সম্পর্কের প্রকাশ এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
হাদিসে দোয়াকে ইবাদতের মূল বলা হয়েছে। মহান আল্লাহ নিজেই বান্দাদের দোয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা আমার কাছে দোয়া করো। আমি তোমাদের দোয়া কবুল করব।’ (সুরা মুমিন, আয়াত : ৬০)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘দোয়া ছাড়া আর কোনো কিছুই আল্লাহর সিদ্ধান্তকে বদলাতে পারে না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২১৩৯)।
তবে শুধু দোয়া করলেই হবে না। দোয়া কবুল হওয়ার জন্য কিছু শর্ত ও আদব মেনে চলা প্রয়োজন।
হারাম থেকে দূরে থাকা
খাদ্য, পানীয়, পোশাক ও উপার্জনে হারামকে পরিহার করতে হবে। হারাম উপার্জনে জীবন পরিচালিত হলে দোয়া কবুল হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে নবী করিম (সা.) সতর্ক করেছেন। (তিরমিজি, হাদিস : ২৯৮৯)।
দৃঢ় বিশ্বাস ও একাগ্রতা
দোয়ার সময় আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখতে হবে। মনোযোগ ও আন্তরিকতার সঙ্গে দোয়া করতে হবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা কবুল হওয়ার পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে দোয়া করো। আল্লাহ অমনোযোগী ও অসাড় মনের দোয়া কবুল করেন না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৭৯)।
আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ পড়া
দোয়ার শুরুতে আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করা সুন্নত। এরপর নিজের প্রয়োজন ও চাওয়া আল্লাহর কাছে তুলে ধরা উচিত। (সুনানে আবু দাউদ)।
তাড়াহুড়ো ও হতাশা পরিহার
দোয়া করার পর দ্রুত ফল না পেলে হতাশ হওয়া যাবে না। দোয়া কবুলের ব্যাপারে ধৈর্য ধরতে হবে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকের দোয়া কবুল হয়, যদি সে তাড়াহুড়ো না করে এবং না বলে— আমি দোয়া করেছি, কিন্তু কবুল হয়নি।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৩৪০)।
দোয়া মুমিনের শক্তি, আশা এবং আত্মিক প্রশান্তির উৎস। আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দার প্রার্থনা শুনতে ভালোবাসেন। তাই দোয়ার আদব মেনে, হারাম থেকে বেঁচে, পূর্ণ বিশ্বাস ও ধৈর্যের সঙ্গে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিত। এতে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় এবং বান্দা আল্লাহর আরও নিকটবর্তী হতে পারে।
সময়ের আলো/এসএকে