গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকায় যমুনা নদীর ভাঙনরোধে নির্মিত সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের একটি অংশ ধসে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই বাঁধের এমন ক্ষয়ক্ষতিতে নদীপাড়ের শতাধিক পরিবারের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনার পানির সামান্য চাপেই প্রকল্পের ১০ নম্বর সাইডের সিসি ব্লকগুলো ভেঙে নদীতে তলিয়ে যায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। তাদের দাবি, নির্ধারিত নকশা ও শিডিউল অনুযায়ী ব্লক স্লোপিং করা হয়নি। এছাড়া দ্রুত কাজ শেষ করার তাড়াহুড়ায় যথাযথভাবে মাটি ভরাট না করায় বাঁধের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে সামান্য পানির চাপেই বাঁধের একটি বড় অংশ ধসে যায়।
গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘নদীভাঙন থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে। অথচ ঠিকাদারদের অবহেলা ও নিম্নমানের কাজের কারণে সামান্য পানিতেই বাঁধ ধসে পড়ছে। আমরা এখন ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই বাঁধের এই অবস্থা নদীপাড়ের মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গোবিন্দপুরসহ আশপাশের এলাকায় নতুন করে নদীভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, নদীর পানি বাড়তে শুরু করলে ভাঙনের তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা শতাধিক পরিবারকে গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলবে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে কাজের মান ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পাউবোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা সম্ভব হয়নি।
সময়ের আলো/এসএকে