দীর্ঘ ১১০ দিনের সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে একটি শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এরপর ইরানও চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এর বাস্তবায়ন।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে জানান, ভার্সাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির পথ সুগম করবে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার সুযোগ সৃষ্টি করবে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামও কমতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্টদের স্বাক্ষরের মাধ্যমে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের চূড়ান্ত পাঠ সম্পন্ন হয়েছে। এখন সময় এসেছে চুক্তির বাস্তবায়ন পরীক্ষা করার।
প্রাথমিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান সুইজারল্যান্ডে হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে অনুষ্ঠিত হয়। তবে তেহরান জানিয়েছে, জেনেভায় নির্ধারিত বৈঠক এখনও পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে উভয় দেশ একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করবে।
চুক্তিতে যা রয়েছে
‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের মধ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ শীর্ষক এই নথিতে সব ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায়, সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী— ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে, যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের মতো জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে এবং পরবর্তী ৬০ দিনের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে ইরান।
১১০ দিনের যুদ্ধের অবসান
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ প্রায় ১১০ দিন স্থায়ী হয়। এই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটলেও আগামী ৬০ দিনের আলোচনা এবং চুক্তির বাস্তব বাস্তবায়নই নির্ধারণ করবে এই সমঝোতা দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে।
/ইউএমএইচ