আইআরজিসি গোপনে ইরাকে সেল গঠন করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইরাকে গোপনে নতুন কিছু সেল (গোপন ইউনিট) গঠন করেছে, যাদের কাজ ছিল উপসাগরীয় দেশগুলোতে

2026-06-19T14:23:50+00:00
2026-06-19T14:27:38+00:00
 
  বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬,
১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
রয়টার্সের প্রতিবেদন
আইআরজিসি গোপনে ইরাকে সেল গঠন করে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়েছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ২:২৩ পিএম  আপডেট: ১৯.০৬.২০২৬ ২:২৭ পিএম
ইরাকে বসরা শহরে ইরানের কনস্যুলেটের বাইরে আয়োজিত এক সমাবেশে ইরান সরকারের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইরাকি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সমর্থকরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবি পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। ছবি : রয়টার্স

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইরাকে গোপনে নতুন কিছু সেল (গোপন ইউনিট) গঠন করেছে, যাদের কাজ ছিল উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালানো— যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিও রয়েছে। একাধিক ইরাকি সূত্র রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছে। 

সূত্রগুলো বলছে, এসব ইউনিট প্রচলিত মিলিশিয়া নেটওয়ার্কের বাইরে কাজ করছে এবং সরাসরি আইআরজিসির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে, যাতে তাদের কার্যক্রম সহজে শনাক্ত করা না যায়।

ছোট কিন্তু দক্ষ গোপন ইউনিট

প্রতিটি সেলে প্রায় ১০ জন করে অভিজাত শিয়া যোদ্ধা রয়েছে। ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় বসরা ও সামাওয়া শহরের মরুভূমি এলাকা থেকে অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব হামলার লক্ষ্য ছিল কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন স্থাপনা।  

সূত্র অনুযায়ী, হামলাগুলো এপ্রিল ২০ থেকে মে ১৭ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সংঘটিত হয়। 

পুরনো মিলিশিয়া কাঠামোর বাইরে নতুন কৌশল

আগে ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন মিলিশিয়া গ্রুপের মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার করা হতো। তবে এবার নতুন সেলগুলো সরাসরি আইআরজিসির অধীনে কাজ করছে, যা বিশ্লেষকদের মতে একটি নতুন কৌশলগত পরিবর্তন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ার কারণে এখন তারা ছোট, বেশি গোপন এবং কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ইউনিট ব্যবহার করছে।


আঞ্চলিক উত্তেজনা ও অভিযোগ

ইরাক দীর্ঘদিন ধরে ইরানপন্থী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এসব গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের লক্ষ্য করে বহুবার হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে নতুন সেলগুলোর কার্যক্রম ইরাক সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে এবং এগুলো দেশটির সার্বভৌমত্বের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।

ইরাক সরকারের উদ্বেগ

ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি এসব হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং ঘটনার যৌথ তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো দেশ বা গোষ্ঠী যেন আঞ্চলিক শান্তি বিঘ্নিত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর বলেছে, ইরাক সরকারের উচিত ইরানের “অস্থিতিশীল কার্যক্রম” বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং আইআরজিসি-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা। 

অন্যদিকে কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে এ ধরনের হামলার বিষয়ে ইরাকের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই নতুন গোপন সেল কৌশল মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ইরাক, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে উঠতে পারে। 

রয়টার্স জানিয়েছে, তারা এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।    

সূত্র : রয়টার্স 

/ইউএমএইচ



  বিষয়:   আইআরজিসি  ইরাক  উপসাগরীয় দেশ  হামলা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: