নাটোরের সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহ ও অভাব-অনটনের জেরে দেড় বছরের সন্তানকে ঘুমন্ত রেখে একই ওড়নায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এক দম্পতি। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে নাটোর সদর উপজেলার ঢালান এলাকা থেকে স্বামী রাকিব হোসেন (২২) ও স্ত্রী লিজা খাতুনের (২১) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের ধারণা, পারিবারিক কলহ ও সংসারের অভাবের কারণে মানসিক অবসাদ (ট্রমা) থেকে তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই সুরতহাল রিপোর্ট শেষে মরদেহ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাটোর-রাজশাহী মহাসড়ক সংলগ্ন ঢালান এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে অটোরিকশা চালক রাকিব হোসেনের সঙ্গে দুই বছর আগে বিয়ে হয় একই এলাকার আজিজুল ইসলামের মেয়ে লিজা খাতুনের। বিয়ের পর বনিবনা না হওয়ায় এক পর্যায়ে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে দুই পরিবারের সমঝোতায় তারা আবার নতুন করে সংসার শুরু করেন। তাদের ঘরে আব্রাহাম নামে দেড় বছরের একটি সন্তান রয়েছে।
স্বজনরা জানান, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে রাকিব বাড়ি ফিরে স্ত্রী লিজার সঙ্গে নিজের ঘরেই ছিলেন। এ সময় সংসারের অভাব-অনটন নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে দুজনেই ঘরের দরজা বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান করছিলেন।
বিকেলে দীর্ঘক্ষণ তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে ঘরের জানালা ও দরজার ফাঁক দিয়ে তারা দেখতে পান, শয়নকক্ষের চালের বাঁশের সঙ্গে একই ওড়নায় দুজন ঝুলে আছেন। খবর পেয়ে নাটোর সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম জানান, পারিবারিক কলহ ও সংসারের অভাব-অনটন নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। এরপর তারা নিজেদের ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। ঘটনার সময় তাদের দেড় বছরের শিশু সন্তান আব্রাহাম ওই ঘরেই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে।
সময়ের আলো/জোই