জিয়াউর রহমানের কালজয়ী আদর্শ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে ধারণ করেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরলসভাবে কাজ করছেন বলে জানান ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, শহিদ জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের অবিস্মরণীয় স্থপতি।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) ভবনে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শহিদ জিয়ার ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের অন্ধকার রাতে মেজর জিয়াউর রহমান বীরদর্পে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে মুক্তিসংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে তিনি এক আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার যাত্রা শুরু করেন। তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন এবং ‘১৯ দফা কর্মসূচি’র মাধ্যমে কৃষি বিপ্লব, গার্মেন্টস সেক্টর ও জনশক্তি রফতানির প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপন করেন।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের বীর জনতা ক্ষমতার ভোগের জন্য আমাদের নির্বাচিত করেনি, বরং তাদের অধিকার নিশ্চিত করতেই এই পবিত্র দায়িত্ব দিয়েছে। চউক, ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনসহ সব সেবা সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমন্বিত ও আধুনিক চট্টগ্রাম গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের সমস্যা ‘ওজন নির্ধারণী স্কেল’ (ওয়েইং স্কেল) জটিলতার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে দ্রুতই প্রধানমন্ত্রীর সমীপে কার্যকর প্রস্তাবনা পেশ করা হবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, বিগত আমলের নজিরবিহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অবসান ঘটানো হয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের পয়সার অপচয় বা সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। চউকসহ চট্টগ্রামের প্রতিটি সরকারি দফতরে শতভাগ স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ (চট্টগ্রাম-৮), আবু সুফিয়ান (চট্টগ্রাম-৯), মোহাম্মদ এনামুল হক (চট্টগ্রাম-১২) এবং চউকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। এর আগে শহিদ জিয়ার রুহের মাগফেরাত এবং দেশের সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
সময়ের আলো/জোই