ধান সংগ্রহের তথ্য দিতে নারাজ কর্মকর্তারা; স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন!

নওগাঁ প্রতিনিধি

সারাদেশ

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় চলমান সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের কৃষকদের তথ্য দিতে অনীহার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ওবায়দুল ইসলাম এবং

2026-06-20T22:06:07+00:00
2026-06-20T22:06:07+00:00
 
  বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬,
১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
সারাদেশ
ধান সংগ্রহের তথ্য দিতে নারাজ কর্মকর্তারা; স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন!
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম 
বাম থেকে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ওসি এলএসডি তারানা আফরীন ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ওবায়দুল ইসলাম
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় চলমান সরকারি ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের কৃষকদের তথ্য দিতে অনীহার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ওবায়দুল ইসলাম এবং ওসি এলএসডি তারানা আফরীনের বিরুদ্ধে। আবার তথ্য দিতে চেয়েও অজুহাত দেখালেন খাদ্য কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলাম। 

তবে এই দুই কর্মকর্তার সাথে নওগাঁর সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল্লাহ আল ইমরানও কৃষকদের নাম-ঠিকানা ব্যক্তিগত বিষয় উল্লেখ করে আইনের বাধ্যবাধকতার কথা জানালেন। আর এতে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সরকার কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি নির্ধারিত মূল্যে ধান সংগ্রহ করছে। অনলাইন আবেদন, লটারি ও কৃষি বিভাগের তালিকার মাধ্যমে প্রকৃত কৃষক নির্বাচনের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম করার কথা। কিন্তু ধান সংগ্রহ কার্যক্রম প্রায় শেষ হতে চললেও রাণীনগর উপজেলায় নির্বাচিত কৃষকদের তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি সংবাদকর্মীরা চাইতে গেলেও করা হয়েছে লুকোচুরি, দেখানো হয়েছে তালবাহানা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলায় ৩৬ টাকা কেজি দরে ১ হাজার ৯৬৯ মেট্রিক টন ধান, ৪৯ টাকা কেজি দরে ২ হাজার ৭৯ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৫১ টাকা কেজি দরে ৮১ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।


চলতি বছরের ১২ মে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। পরে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিষয়েও আলোচনা হয়। তারপরও খাদ্য বিভাগ থেকে পাওয়া যায়নি কোনো তথ্য, করা হয়নি সহযোগিতা।

তথ্য জানতে চাইলে রাণীনগর খাদ্য বিভাগের ওসি এলএসডি তারানা আফরীন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তথ্য দিতে রাজিনা। এমনকি তথ্য অধিকার আইনের কথা উল্লেখ করে টাকা জমা দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলামের কাছে তথ্য চাইলে তিনি সাংবাদিকদের নিয়ে নেতিবাচক ও বিরূপ মন্তব্য করে এক সপ্তাহ পর আসতে বলেন। পরের সপ্তাহে গেলে তিনি জানান, জুন মাসের ক্লোজিংয়ের আগে কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। তথ্য দিতে সমস্যা কি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। আপনাদেরকে যে তথ্য দিব সেই তথ্য আমার কাছে নেই, ওটা রেডি করে দিতে হবে। এই জন্য সময় লাগবে। একসময় তিনি বলেন, ইচ্ছে থাকলেও সবকিছু করা সম্ভব না, ওই স্বাধীনতা আমাকে দেওয়া হয়নি।

তবে উপজেলার এই খাদ্য নিয়ন্ত্রক কৃষকদের তালিকা দেওয়ালে টাঙানোর কথা বললেও সেখানে গিয়ে টাঙানোর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এমনকি কোথায় টাঙানো আছে সেই বিষয়ে এলএসডি অফিসে কর্মরত কেউ সহযোগিতাও করেনি।


নওগাঁ সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল্লাহ আল ইমরান মুঠোফোনে বলেন, অনলাইন আবেদন হলেও সবার কাছে দৃশ্যমান না। তথ্য অধিকার আইনেও নির্দিষ্ট করে তথ্য দিতে পারবো না। এটা আইনেই বাধ্যবাধকতা আছে। তিনি বলেন, আমরা শুধু কতজন ধান দিয়েছে এবং কতোগুলো ধান সংগ্রহ হয়েছে এই তথ্য দিতে পারবো। নাম ঠিকানা দেওয়া যাবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইনেও নাম ঠিকানা দেওয়া সম্ভব না। কারণ নাম ব্যক্তিগত বিষয় বলেও জানান তিনি।

এদিকে সচেতন মহলের প্রশ্ন, ধান সরবরাহকারী কৃষকদের তথ্য যদি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছেই প্রস্তুত না থাকে, তাহলে সংগ্রহ কার্যক্রম কীভাবে তদারকি করা হচ্ছে? স্থানীয়দের মতে, সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কৃষকদের তালিকা প্রকাশ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা জরুরি। তথ্য গোপনের প্রবণতা অনিয়ম ও দুর্নীতির আশঙ্কা বাড়ায় বলেও তারা মনে করেন।

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   ধান  কর্মকর্তারা  স্বচ্ছতা  নওগাঁ  রাণীনগর 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: