‘স্বপ্নাদিষ্ট পীরের’ দোহাই দিয়ে কবরস্থানে মাদকের আখড়া!

​সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সারাদেশ

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাজিতপুর গ্রামে শতবর্ষী পঞ্চায়েতি কবরস্থানের নির্জন জঙ্গল এখন এক আতঙ্কের জনপদ। কবরস্থানের ভেতরে ঘন বাঁশঝাড় আর গাছপালার

2026-06-20T21:54:11+00:00
2026-06-20T21:54:11+00:00
 
  বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬,
১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
সারাদেশ
‘স্বপ্নাদিষ্ট পীরের’ দোহাই দিয়ে কবরস্থানে মাদকের আখড়া!
​সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৯:৫৪ পিএম 
ছবি : সময়ের আলো
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বাজিতপুর গ্রামে শতবর্ষী পঞ্চায়েতি কবরস্থানের নির্জন জঙ্গল এখন এক আতঙ্কের জনপদ। কবরস্থানের ভেতরে ঘন বাঁশঝাড় আর গাছপালার মাঝে বিশাল এক বটবৃক্ষের নিচে গড়ে তোলা হয়েছে দোতলা ছাপড়ি ঘর। অভিযোগ রয়েছে সেখানে ‘স্বপ্নাদিষ্ট পীর’ ও আধ্যাত্মিক সাধনার আড়ালে চলছে গাঁজা-মদের রমরমা আসর, জুয়া এবং রাতভর অসামাজিক কার্যকলাপ।

এই আস্তানা গড়ে তুলেছেন একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও জামিনপ্রাপ্ত আসামি গয়াছ মিয়া (৩৫)। কবরস্থানে মাদক ও অপতৎপরতার অভিযোগে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। 

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা গয়াছ মিয়া একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি, যিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছিলেন। দীর্ঘ কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়ে এলাকায় ফিরে তিনি এক নতুন নাটক শুরু করেন। মাথায় সাদা পাগড়ি, গলায় পীরের ভাব ধরলেও তার হাতে সবসময় থাকে নথ লাগানো লোহার রড, ধান কাটার কাঁচি ও দেশীয় অস্ত্র।

​কারামুক্তির পর গয়াছ দাবি করেন, স্বপ্নে অজ্ঞাত এক পীরের নির্দেশ পেয়ে তিনি এই কবরস্থানে জিন সাধনা ও মানুষকে আধ্যাত্মিক সহযোগিতা করতে এসেছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তার বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া ও ভিটামাটি বিক্রি হয়ে যাওয়ায় তিনি আশ্রয়হীন হয়ে এখানে আস্তানা গড়েছেন বলে দাবি করেন। মাদকের আখড়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করলেও বাস্তব চিত্র ও এলাকাবাসীর একাধিক সাক্ষ্য তার এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণ করে।

​এই আস্তানার কারণে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এলাকার শিশুরা। কবরস্থানের পাশ দিয়েই প্রতিদিন তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ছোট শিশু বা কিশোরীদের দেখলেই গয়াছ জঙ্গল থেকে লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তেড়ে আসেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।

​একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, গয়াছের হাতে সবসময় অস্ত্র থাকায় তারা স্কুল-মাদরাসায় যেতে ভয় পাচ্ছে। বর্তমান বাজিতপুর-শ্যামলবাজার সড়কটি এখন কোমলমতি শিশুদের কাছে এক আতঙ্কের পথে পরিণত হয়েছে।

​এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কবরস্থান থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হলেও গয়াছ তা কর্ণপাত করেননি। পবিত্র স্থানের এই অবমাননা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি দেখে গত বুধবার এলাকাবাসী দোয়ারাবাজার মডেল থানার ওসি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া অনুলিপি পাঠানো হয়েছে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং উপজেলা প্রশাসনের কাছে। এলাকাবাসীর দাবি- অবিলম্বে এই অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদ, মসজিদের সম্পত্তি উদ্ধার এবং পবিত্র কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষা করা হোক।

​স্থানীয় সচেতন মহল ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, গয়াছ একজন চিহ্নিত ভণ্ড। সে নির্জনে পীর সেজে মাদকের আখড়া গড়েছে। সন্ধ্যা হলেই সেখানে স্থানীয় মাদকসেবী ও জুয়াখোরদের ছত্রছায়ায় রাতভর গাঁজা-মদের আসর বসে।


বাজিতপুর জামে মসজিদের  মোতাওয়াল্লি সুনুর মিয়া বলেন, ​কবরস্থানের পাশ দিয়েই শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। সেখানে এমন মাদক কারবার ও সমাজবিরোধী তৎপরতা চলতে থাকলে এলাকায় যেকোনো সময় বড় ধরণের বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে।

শ্যামলবাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি বাবুল মিয়া বলেন,  হত্যা মামলার প্রধান আসামি জামিনে এসে জঙ্গলে আস্তানা গেড়ে এমন চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এলাকার মানুষ এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাবিল আরাফাত বলেন, ​পবিত্র কবরস্থানে একজন হত্যা মামলার আসামি ‘পীর’ সেজে মাদকের আখড়া ও তাসের আসর বসাচ্ছে এই তথ্য থানা পুলিশ এবং প্রশাসন জানার পরও কেন এখনো উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে না, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এলাকাবাসীর এখন একটাই প্রশ্ন- কবে মিলবে এই আতঙ্ক থেকে মুক্তি?

​এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দোয়ারাবাজার মডেল থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, আমরা এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   স্বপ্নাদিষ্ট পীর  কবরস্থান  মাদক  সুনামগঞ্জ  দোয়ারাবাজার  সিলেট 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: