রাজশাহী মহানগরীর একটি জুয়েলারির দোকানে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে দেয়াল কেটে দোকানে প্রবেশ করে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ও দোকানের ক্যাশে থাকা নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে মালিকপক্ষ।
শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাতে রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার স্বর্ণকারপট্টি এলাকায় কারুশ্রী জুয়েলার্সে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সিআইডির ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২০ জুন) সকালে দোকান খোলার সময় প্রথম ঘটনাটি ধরা পড়ে। পরে দেখা যায়, আফিয়া জুয়েলার্স ও কারুশ্রী জুয়েলার্সের মধ্যবর্তী পার্টিশন দেয়াল কেটে দুর্বৃত্তরা ভেতরে প্রবেশ করে।
পুলিশের ধারণা, প্রথমে আফিয়া জুয়েলার্সের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। পরে সেখান থেকে দেয়াল কেটে কারুশ্রী জুয়েলার্সে প্রবেশ করে এবং সিন্ধুক ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নেয়। বের হওয়ার সময় তারা আবার আফিয়া জুয়েলার্সে তালা লাগিয়ে যায়। আফিয়া জুয়েলার্সে কোনো মালামাল না থাকায় সেখান থেকে কিছু নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
সূত্রে জানা যায়, এ দোকানে প্রায় আড়াই থেকে তিনশো ভরি স্বর্ণালঙ্কার, প্রায় ১২ শ’ ভরি রুপা ও নগদ নগদ ২০ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। এ চুরির ঘটনার প্রতিবাদে রাজশাহীর জুয়েলার্স ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।
কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তূর্য সরকার জানান, সকালে দোকান খুলতে এসে ভেতরের এলোমেলো অবস্থা দেখে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের ব্যবসায়ীরাও ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পরে স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা তাদের সব দোকান বন্ধ করে প্রতিবাদ জানায়।
ব্যবসায়ীদের ধারণা, এটি পরিকল্পিত একটি সংঘবদ্ধ চুরি। দোকানের বিন্যাস ও ভেতরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে আগে থেকেই চক্রটি জানত বলেই মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি আশরাফুল ইসলাম অপু বলেন, ঘটনার পর স্বর্ণপট্টি এলাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত রাজশাহীর সব জুয়েলার্সের দোকান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। সেই সাথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান তিনি।
বোয়ালিয়া থানা ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। এটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
সময়ের আলো/আতা