গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নের পটকা গ্রামে সেরার খালের ওপর নির্মিত প্রায় ৩৮ বছরের পুরোনো একটি সেতুর নিচের অংশ দেবে যাওয়ায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল। এতে পটকা, বাউনি ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি অপসারণ করে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা সেতুটি পরিদর্শন করেছি। সেতুর নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় মূল কাঠামোর একটি অংশ দেবে গেছে। জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আপাতত সেখানে একটি স্টিলের বেইলি ব্রিজ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে স্থায়ীভাবে নতুন একটি সেতু নির্মাণ করা হবে।
গোসিঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফরুক আহমেদ বলেন, অনেক দিন ধরেই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এখন নিচের অংশ দেবে গিয়ে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে যানবাহন ও মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়কে জানানো হয়েছে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটকা থেকে বাউনি বাজারগামী বীর মুক্তিযোদ্ধা কবির প্রধান সড়কের ওপর অবস্থিত সেতুটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সম্প্রতি সেতুর নিচের একটি বড় অংশ দেবে যায় এবং বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দেয়। এতে সেতুটি সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয়রা স্বেচ্ছায় সেতু দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল ও পারাপার বন্ধ করে দেন।
পটকা গ্রামের বাসিন্দা জব্বার আলী বলেন, সেতুটি অনেক দিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এখন নিচের অংশ দেবে যাওয়ায় মানুষ আর পারাপার করতে পারছে না। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বাউনি বাজারের ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, এটি এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সেতু বন্ধ থাকায় কয়েক কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। মালামাল পরিবহনে দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে, সময়ও বেশি লাগছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষার্থী উম্মে কুলসুম মায়া বলেন, প্রতিদিন এই সেতু দিয়েই স্কুলে যেতাম। এখন অনেক দূরের রাস্তা ঘুরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় বেশি লাগছে, পাশাপাশি ভোগান্তিও বেড়েছে। সিএনজিচালক হেলাল উদ্দিন বলেন, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন যাত্রী পরিবহন করতাম। সেতু দেবে যাওয়ার পর থেকে আর চলাচল করতে পারছি না। আয়-রোজগার কমে গেছে। যাত্রীদেরও অনেক ঘুরপথে যেতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও কার্যকর কোনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে আজ হাজারো মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, শ্রমজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘব, নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি অপসারণ করে সেখানে একটি আধুনিক ও টেকসই নতুন সেতু নির্মাণ করা হোক।
সময়ের আলো/এসএকে