স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবরায় একাধিক হামলার ঘটনায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে পুলিশ। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি সম্ভবত মুসলিমবিদ্বেষী ঘৃণা থেকে এসব হামলা চালিয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) পুলিশ জানায়, ৩৬ বছর বয়সী এক স্কটিশ নাগরিককে শুক্রবার গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৯ জুন এডিনবরায় সংঘটিত একাধিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এসব হামলায় পাঁচজন পুরুষ আহত হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, খালি গায়ে এক ব্যক্তি বড় ধরনের একটি অস্ত্র হাতে এডিনবরার রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। অন্য একটি ভিডিওতে তাকে একটি পিৎজারিয়ার দরজায় আঘাত করতে দেখা যায়।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় ওই ব্যক্তি মাটিতে শুয়ে চিৎকার করে বলছে যে সে ‘দেশকে রক্ষা করছে’।
শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের সাইটহিল এলাকায় একটি ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়, যেখানে দুইজন আহত হয়েছিলেন।
পরে শহরের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে আরও কয়েকটি ঘটনার খবর পায় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, একই সময়ে টেলফোর্ড রোড ও লিথ ওয়াক এলাকায় আরও তিনজন পুরুষের ওপর হামলা চালানো হয়।
২২ থেকে ৩৯ বছর বয়সী ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন ধরনের আঘাত পেয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে, যদিও আঘাতগুলো প্রাণঘাতী নয়।
পুলিশ স্কটল্যান্ডের সহকারী প্রধান কনস্টেবল ক্যাটরিওনা প্যাটন ঘটনাটিকে ‘মর্মান্তিক’ বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি বলেন, আমি আমাদের সব সম্প্রদায়ের প্রতি সমর্থনের একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই— স্কটল্যান্ডে বর্ণবাদ বা ধর্মভিত্তিক বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই। আমরা যখন একসঙ্গে থাকি, তখনই স্কটল্যান্ড তার সেরা রূপে থাকে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি মুসলিমবিদ্বেষী ঘৃণার দ্বারা প্রভাবিত বলে মনে হচ্ছে। আমি এটি কোনোভাবেই মেনে নেব না। তাকে আইনের পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি হতে হবে।
স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই সহিংসতার নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, এসব ঘটনায় আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমাদের দেশে সহিংসতা, বর্ণবাদ বা অসহিষ্ণুতার কোনো স্থান নেই। গত সপ্তাহে আমি বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি এবং তাদের প্রতি সরকারের দৃঢ় সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছি।
স্কটিশ অ্যাসোসিয়েশন অব মসজিদস জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে দুজন নামাজ আদায়ের পর হামলার শিকার হন।
অন্যদিকে মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন বলেছে, মুসলিম সম্প্রদায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন। সংগঠনটি এমন রাজনৈতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছে, যা পুরো একটি সম্প্রদায়কে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, এডিনবরার হামলার খবর শুনে আমি মর্মাহত। মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও সহিংসতার কোনো স্থান নেই। আমি জানি, এটাই আমাদের দেশের প্রকৃত পরিচয় নয়।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ