শ্রমিক দল নেতার বাড়িতে বোমা নিক্ষেপ করে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে ঘটনার ৩ ঘণ্টার মধ্যে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাত ৪টার ৩৫ মিনিটে বরিশালের বানারীপাড়া থানায় রহস্যময় এ মামলা করা হয়।
জানা গেছে, মামলায় সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম মনি ও উপজেলার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাওলাদ হোসেন সানাসহ ৪০জন নামধারী এবং অজ্ঞাতনামা ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামী করা হয়েছে। আসামীর মধ্যে উপজেলা বিএনপি সহ সভাপতি সালেক মল্লিক শিমুলের নামও রয়েছে।
মামলার বাদী মো. রাসেল পেশায় অটোরিকশা চালক এবং বাইশারী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ঘটনাস্থল সন্ধ্যা নদীর পশ্চিম পাড় বাইশারী ইউনিয়নের গরদ্বার গ্রাম এবং বানারীপাড়া থানা নদীর পূর্ব পাড়ে।
এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, তাকে (রাসেল) স্বপরিবারে হত্যার উদ্দেশ্যে বাইশারী গ্রামে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে আসামীরা বোমার বিস্ফোরণ ঘটনা। এতে তার ঘরে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
তবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বানারীপাড়া ষ্টেশনের টিম লিডার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে গরদ্বার গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের খবর পান। তারা সেখানে যাওয়ার প্রস্ততি নেয়ার মধ্যে ফের খবর আসে আগুন নেভানো হয়েছে। তাই ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যায়নি।
মামলার আসামী আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম মনি বলেন, পুরো ঘটনাটি সাজানো। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে বিএনপি নাটক মঞ্চস্থ করেছে।
এজাহারের অন্যতম আসামী উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি সালেক মল্লিক শিমুল বলেন, এ মামলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন তাকে আসামী করা হয়েছে। বাদী রাসেলকেও তিনি চেনেন না।
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাকে আসামী করা প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম মিঞা বলেন, আমি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করবো না। ঘটনাটি আমি আজকে (রোববার) জেনেছি। বাদী রাসেলকে চেনেন কিনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেখলো হয়ত চিনব, কিন্তু এই মুহূর্তে মনে করতে পারছি না।
বাদী মো. রাসেলের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. একরামুল হক জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমা বিস্ফোরণের আলামত পেয়েছেন। এর বেশী কিছু বলতে তিনি অপরাগতা জানান।
বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মজিবর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আবদুল্লাহ ফকির নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে ঘটনাস্থলে তিনি যাননি।
এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক এ মামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/আতা