গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হওয়ার ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। ঘটনার প্রতিবাদে রোববার (২১ জুন) বিকেলে সাদুল্লাপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দীনকে অবিলম্বে প্রত্যাহার ও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
গত ১৮ জুন সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়া মৌজায় অর্পিত সম্পত্তি ব্যক্তিমালিকানাধীন দেখিয়ে প্রায় তিন কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে দুটি সরকারি প্রতিবেদনে পরস্পরবিরোধী তথ্য থাকায় ব্যাখ্যা জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দীনের কার্যালয়ে যান সময় সংবাদের প্রতিনিধি হেদায়েতুল ইসলাম বাবু এবং যমুনা টেলিভিশনের প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান মণ্ডল পলাশ।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, প্রশ্নের জবাব দেওয়ার পরিবর্তে এসিল্যান্ড তাদের সঙ্গে রূঢ় ও অপেশাদার আচরণ করেন। একপর্যায়ে তিনি ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ধমক দিয়ে তাদের কার্যালয় থেকে বের করে দেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
বিষয়টি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার। সে অনুযায়ী রোববার গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে তদন্ত পরিচালনা করেন রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) আশরাফুল ইসলাম। তদন্তকালে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বক্তব্য গ্রহণ ও রেকর্ড করা হয়।
তদন্তের দিনই বিকেলে প্রেসক্লাব কার্যালয়ে বক্তারা বলেন, সরকারি তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দায়িত্বশীল একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন আচরণ কেবল নিন্দনীয়ই নয় বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংবিধান স্বীকৃত তথ্যপ্রাপ্তির অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। তারা অভিযোগ করেন, জসিম উদ্দীন সাদুল্লাপুরে যোগদানের পর থেকেই ভূমিসেবা প্রত্যাশীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, হয়রানি ও দায়িত্ব পালনে নানা অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে শোনা যাচ্ছে।
সভায় উপস্থিত নেতারা বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এ ধরনের উগ্র, মারমুখী ও শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা প্রশাসনের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
সভা শেষে নেতারা অবিলম্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দীনকে সাদুল্লাপুর থেকে প্রত্যাহার এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। দাবি মানা না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সময়ের আলো/আতা