আর্লিং হালান্ড এবং সাদিও মানে। দুই তারকার দ্বৈরথ ঘিরেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে গ্রুপ ‘আই’-এর নরওয়ে বনাম সেনেগাল ম্যাচ। যেখানে একদিকে ইউরোপের উত্থানশীল শক্তি নরওয়ে আর অন্যদিকে আফ্রিকার অভিজ্ঞ ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী দল সেনেগাল মুখোমুখি হবে ইস্ট রাদারফোর্ডে। দুই দলের জন্যই এটি শেষ ৩২-এ জায়গা নিশ্চিত করার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ।
নরওয়ে তাদের প্রথম ম্যাচে ইরাককে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে। যেখানে আর্লিং হালান্ড প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করে আবারও নিজের ভয়ংকর ফিনিশিংয়ের প্রমাণ দিয়েছেন। অন্যদিকে সেনেগাল শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হেরে শুরু করেছে। যদিও ইব্রাহিমা এমবায়ে ইতিহাস গড়ে গোল করেছেন।
কিন্তু কিলিয়ান এমবাপের জোড়া গোল এবং ব্র্যাডলি বারকোলার ফিনিশিং ম্যাচ তাদের হাতছাড়া করে দেয়। এই ফলাফলের কারণে নরওয়ে এখন গ্রুপের শীর্ষে আছে এবং সেনেগাল কিছুটা চাপের মধ্যে রয়েছে। আরেকটি হার তাদের শেষ ৩২-এ যাওয়ার পথ কঠিন করে দেবে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের দিক থেকে দুই দলের মধ্যে খুব বড় পার্থক্য নেই।
তবে সামান্য এগিয়ে ১৫তম অবস্থানে সেনেগাল। তারা দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকার শীর্ষ দলগুলোর একটি হিসেবে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করছে। অন্যদিকে ৩১তম অবস্থানে থাকা নরওয়ে ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে উঠছে। বর্তমান ফর্মে তারা বেশ আত্মবিশ্বাসী, হেড টু হেডে দুই দলের ইতিহাস খুবই সীমিত। এখন পর্যন্ত মাত্র একবার ২০০৬ সালে প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল, যেখানে সেনেগাল ২-১ গোলে জয়ী হয়েছিল।
সেই ম্যাচের পর এবারই প্রথম তারা বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে আবার মুখোমুখি হচ্ছে। নরওয়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আর্লিং হালান্ডের গোল করার অসাধারণ ক্ষমতা, তার সঙ্গে মার্টিন ওডেগার্ডের প্লে-মেকিং দলকে আক্রমণে আলাদা মাত্রা দেয়। সেনেগালের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেন সাদিও মানে, যিনি বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার জন্য পরিচিত, তার সঙ্গে নিকোলাস জ্যাকসন ও ইসমাইলা সার আক্রমণভাগে গতি ও বৈচিত্র্য যোগ করেন।
শক্তিমত্তার দিক থেকে নরওয়ে বেশি নির্ভর করে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক, সেট-পিস ও হালান্ডের ফিনিশিংয়ের ওপর। তবে তাদের রক্ষণভাগ এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল নয় এবং শেষ কয়েক ম্যাচে তারা নিয়মিত গোল হজম করেছে। সেনেগাল শারীরিকভাবে খুব শক্তিশালী, অ্যাথলেটিক ডিফেন্স এবং উইংভিত্তিক আক্রমণ তাদের বড় শক্তি হলেও ফিনিশিংয়ে ধারাবাহিকতার ঘাটতি রয়েছে।
দুই দলের সাম্প্রতিক ফর্ম দেখলে ম্যাচটি খুবই ওপেন ও আক্রমণাত্মক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, কারণ উভয় দলই রক্ষণে কিছু দুর্বলতা নিয়ে খেলছে। সব মিলিয়ে এটি এমন একটি ম্যাচ যেখানে নরওয়ে সামান্য এগিয়ে থাকলেও সেনেগালের গতি ও শক্তি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পাল্টে দিতে পারে এবং ফলাফল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চিত থাকতে পারে।
এই ম্যাচে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণও বড় ভূমিকা রাখবে, কারণ দ্রুত ট্রানজিশন ও দ্বিতীয় বল দখলই নির্ধারণ করবে কারা আক্রমণে বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারবে। এ ছাড়া সেট-পিস পরিস্থিতিও দুই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হতে পারে, বিশেষ করে নরওয়ের ক্ষেত্রে।
শেষ পর্যন্ত ছোট ভুলই ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দিতে পারে, তাই দুই দলের জন্যই এটি হবে চাপ ও মানসিক দৃঢ়তার পরীক্ষা।
সময়ের আলো/জেডি