এশিয়ান ফুটবলে অভিষেক ম্যাচেই ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশের ফর্টিস এফসি। বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় কিরগিজস্তানের মুরাস ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বের টিকেট নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের গত মৌসুমে তৃতীয় হওয়া দলটি। ফর্টিসের এই জয়ের নায়ক আবাহনী থেকে ধারে আসা ফরোয়ার্ড মো. ইব্রাহিম। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার করা একমাত্র গোলই দুই দলের ব্যবধান গড়ে দেয়। তবে গোলের আগে ফর্টিসের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড পা ওমর বাবু।
বাংলাদেশের আবহাওয়াকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েই ম্যাচে নেমেছিল ফর্টিস। কিরগিজস্তানের ঠান্ডা পরিবেশে অভ্যস্ত মুরাসের জন্য ঢাকার গরম ও আর্দ্রতা ছিল বাড়তি চ্যালেঞ্জ। ম্যাচের শুরু থেকেই সেই পার্থক্য চোখে পড়ে। শারীরিকভাবে শক্তিশালী সফরকারীরা বল দখলের লড়াইয়ে থাকলেও ফর্টিস তুলনামূলক বেশি স্বচ্ছন্দে আক্রমণ সাজাতে থাকে। প্রথমার্ধে অবশ্য কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফর্টিসের সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে ২২ মিনিটে। বক্সের বাঁ দিক দিয়ে ঢুকে মুরাসের গোলরক্ষককে একা পেয়েছিলেন পা ওমর বাবু। তার বাঁ পায়ের শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও কিছুটা নিজেদের হাতে নেয় ফর্টিস। ৫২ মিনিটে সেই চাপ থেকেই আসে কাক্সিক্ষত গোল। মাঝমাঠ থেকে এগিয়ে গিয়ে পা ওমর বাবু বল বাড়িয়ে দেন ইব্রাহিমকে। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের নিচু শটে মুরাসের গোলরক্ষক ওরেস্ট কস্তিককে পরাস্ত করেন ইব্রাহিম। বল জালে জড়াতেই কিংস অ্যারেনায় শুরু হয় বাংলাদেশের ক্লাবটির উল্লাস। গোলের পর অবশ্য ম্যাচ থেকে হারিয়ে যায়নি মুরাস। সমতা ফেরাতে আক্রমণের ধার বাড়ায় কিরগিজ ক্লাবটি। তবে ফর্টিসের রক্ষণ ও শ্রীলঙ্কান গোলরক্ষক সুজন পেরেরা বেশ কয়েকবার দলকে বিপদমুক্ত করেন।
ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত আসে ৭৪ মিনিটে। বক্সের ভেতর ফর্টিসের এরিক বিস্তার হাতে বল লাগায় পেনাল্টি পায় মুরাস। সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি সফরকারীরা। আতাবায়েভ এরবলের নেওয়া শট সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
ফর্টিসের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে গত মৌসুমের লিগ অবস্থানও। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস এবং রানার্সআপ ঢাকা আবাহনী ফিফার ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞায় থাকায় এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে খেলার সুযোগ পায় তৃতীয় হওয়া ফর্টিস ও চতুর্থ পুলিশ এফসি। গত মৌসুমেও মুরাস ইউনাইটেড বাংলাদেশে এসেছিল। সেবার ঢাকা আবাহনীকে ২-০ গোলে হারিয়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ থেকে বিদায় করেছিল কিরগিজ ক্লাবটি। এক বছর পর একই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে সেই হিসাবও বদলে দিল ফর্টিস।
এবার অবশ্য মুরাসের বিপক্ষে শুধু প্রতিশোধ নয়, নিজেদের সামর্থ্যরেও প্রমাণ দিয়েছে ফর্টিস। মাত্র কয়েক বছর আগে দেশের ফুটবলে যাত্রা শুরু করা ক্লাবটি এবার প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচেই এশিয়ান প্রতিযোগিতার মূল পর্বে জায়গা করে নিল। ২০২৬-২৭ মৌসুমের এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের মূল পর্বের ড্র এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে কুয়ালালামপুরে হওয়ার কথা। সেখানে নিজেদের পরবর্তী প্রতিপক্ষের অপেক্ষায় থাকবে ফর্টিস।
জয়ের পর পোস্ট ম্যাচ প্রেস কনফারেন্সে ইব্রাহিম বলেন, ‘আমার মাথায় এটা ছিল না যে ফর্টিসের হয়ে খেলছি। মনে হয়েছে, দেশের জন্য খেলছি। এখানে দেশটাই বড়। দেশের হয়ে অবদান রেখে গোল করতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি