টানা তিনবার বিশ্বকাপের মূলপর্বে স্থান করে নিতে ব্যর্থ হওয়া চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির দুর্দশা যেন কাটছেই না। ২০২৬ বিশ্বকাপের হতাশার পর বড় কোনো হেভিওয়েট কোচকে দলের দায়িত্ব দিতে জোর তৎপরতা চালিয়েছিল ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (এফআইজিসি)। কার্লো আনচেলত্তি আগেই ব্রাজিলের চুক্তি নবায়ন করে ‘না’ বলে দিয়েছিলেন। এরপর ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব ছাড়া পেপ গার্দিওলাকে কোচ হিসেবে পাওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় আজ্জুরিরা।
ইতালির সংবাদমাধ্যম ‘কোরিয়েরে দেলা সেরা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই আলোচনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছেন এফআইজিসির সদ্য সাবেক টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ও সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার পাওলো মালদিনি। তিনি জানান, অর্থসংক্রান্ত কোনো কারণে নয়, মূলত দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির কারণেই ইতালির দায়িত্ব নেননি স্প্যানিশ এই মাস্টারমাইন্ড।
গার্দিওলাকে রাজি করানোর মুহূর্তগুলোর কথা স্মরণ করে মালদিনি বলেন, ‘তিনি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের জানিয়েছিলেন যে কোনো জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে তিনি আগ্রহী। খবর পেয়ে আমরা বার্সেলোনায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করি। পুরো একটি দিন আমরা একসঙ্গে কাটিয়েছি, দুপুরের খাবার খেয়েছি এবং ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছি। তিনি ইতালি জাতীয় দলের বিষয়ে কতটা উৎসাহী ছিলেন তা বোঝাই যাচ্ছিল, এমনকি কাগজে খসড়া ফরমেশনও আঁকতে শুরু করেছিলেন।’
সংবাদমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, বাৎসরিক দুই কোটি ইউরোর বিপুল বেতন দাবির কারণেই থমকে যায় এই আলোচনা। তবে সে দাবি একবাক্যে উড়িয়ে দিয়ে মালদিনি স্পষ্ট করেন, ‘টাকা কখনোই কোনো বাধা ছিল না। পেপ আমাদের সরাসরি বলেছিলেন যে ইতালির আগের কোচ যা বেতন পেতেন, তার চেয়ে এক ইউরো কম হলেও তার কোনো আপত্তি নেই।’
চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে ইতালিয়ান এই প্রতিরক্ষার প্রতীক বলেন, ‘প্রিমিয়ার লিগে টানা ১০ বছরের মানসিক চাপ এবং সম্প্রতি পিঠে হওয়া অস্ত্রোপচারের পর তিনি কিছুটা বিরতি ও বিশ্রাম চেয়েছিলেন। মূলত সেই শারীরিক ক্লান্তির কারণেই তিনি শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে যান। আমরা অনূর্ধ্ব-১৭ দল থেকে শুরু করে মূল জাতীয় দল - সব কটি স্কোয়াড নিয়ে দীর্ঘ বিশ্লেষণ করেছিলাম।’
গার্দিওলা প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর মালদিনি তার সাবেক সতীর্থ আন্দ্রে পিরলোকে কোচ করার উদ্যোগ নিলেও রাশিয়ার একটি বেটিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিরলোর বাণিজ্যিক চুক্তি থাকার কারণে তা তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে। সেই পদক্ষেপেও জটিলতা তৈরি হলে পদত্যাগ করেন মালদিনি। পরবর্তীতে রবার্তো মানচিনিকে ইতালি জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় এফআইজিসি।
সময়ের আলো/টিকে