২০২৬-২৭ মৌসুমের দলবদল চলছে। জাতীয় ফুটবলার থেকে শুরু করে পেশাদার লিগের খেলোয়াড়রা এখন দলবদলে ব্যস্ত। যেহেতু নতুন মৌসুম এখনও শুরু হয়নি, তাই ফুটবলাররা সেই অর্থে এখন কোনো নিয়মে বাঁধা নেই কিংবা কারও অধীনে নেই। তবে নিয়মে না থাকলেও জাতীয় ফুটবলাররা কিন্তু সরকারের সঙ্গে ক্রীড়া ভাতায় যুক্ত। এই কারণেই খেপ খেলতে গিয়ে সতর্কতার মুখে পড়েছেন শেখ মোরছালিন, রাকিবুল ইসলাম, ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের মতো জনপ্রিয় ফুটবলাররা।
জাতীয় ফুটবলারদের খেপ খেলার বিষয়টি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নজরে আসায় তাদের প্রথমে সতর্ক করার ব্যাপারে সুপারিশ করেছেন। প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছেন বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল এবং বাফুফের জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও জাতীয় দলের ম্যানেজার আমের খান।
এ ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য রেখেছেন আমের খান। সময়ের আলোকে তিনি জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের দলবদল কার্যক্রম চলছে। এখন ওরা অনেকটাই ফ্রি। ক্ষেপ ওরা আগেও খেলতো কিংবা ওদের ব্যাংকসহ বিভিন্ন স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের হয়ে খেলতে দেখা যেত। তবে ওরা যখন সরকারের ক্রীড়া ভাতায় যুক্ত রয়েছে এবং মন্ত্রী মহোদয় ও বাফুফের সভাপতি ওদের সতর্ক করার পক্ষে, আমি তাদের সঙ্গে একমত।’ মোরছালিন-রাকিবরা পেশাদার ফুটবলার। তাদের এমন কাণ্ড অপেশাদারসুলভ এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে ফুটবল বিশেষজ্ঞ থেকে সাধারণ সমর্থকরা মন্তব্য করেছেন।
সম্প্রতি শেখ মোরছালিন, ফয়সাল আহমেদ, রাকিব হোসেনসহ জাতীয় দলের কয়েকজন ফুটবলারের বিভিন্ন এলাকার খেপ ম্যাচে অংশ নেওয়ার বিষয়টি এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে। টাঙ্গাইল ও ঝিনাইদহে গিয়ে এমন ম্যাচে জাতীয় দলের বর্তমান খেলোয়াড়দের দেখেছেন বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
সোমবার রাতে কালশীতে সাংবাদিকদের একটি ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে আমিনুল জানান, আমি ব্যস্ততার কারণে এখন পর্যন্ত আমাদের বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে পারিনি, তবে আমি দ্রুতই তার সঙ্গে হয়তো বা দু-এক দিনের ভেতরে কথা বলব যে যেই খেলোয়াড়রা বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে খেপ খেলছে, সেই বিষয় নজরে এনে তাদের সতর্ক করা, আমরা প্রথম অবস্থায় সতর্ক করতে চাই, তারপর আমরা হয়তো বা ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা করব।
তিনি বলেন, ‘আমার প্রশ্নটা হচ্ছে সেই প্লেয়ারদের কাছে এবং আমি বাফুফের কাছেও প্রশ্নটা রাখব, যেখানে আমরা খেলোয়াড়দের পেশাগত স্বীকৃতি বাবদ ক্রীড়াভাতা প্রদান করছি, সরকার তাদের মাসিক ভাতা দিচ্ছে, তো সেই ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের খেপ খেলতে যাওয়াটা কতটুকু সমীচীন হয়েছে এবং দেশের প্রতি যে কমিটমেন্টের অভাব এবং তার নিজের প্রতি যে কমিটমেন্টের অভাব সেটারই কিন্তু বহিঃপ্রকাশ ইতিমধ্যে পেয়েছি।’
খেপ খেলা নিয়ে জাতীয় ফুটবলারদের বরাবরই অনুৎসাহিত করা হয়। এর কারণ চোটের আশঙ্কা। স্থানীয় এসব ম্যাচে মাঠের অবস্থা, প্রতিপক্ষ ও খেলার পরিবেশ সব সময় পেশাদার ফুটবলের উপযোগী নাও হতে পারে। ফলে সামান্য একটি চোটও জাতীয় দল কিংবা ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি