নরসিংদীর রায়পুরায় ওয়ালিদ হাসান (১৮) নামে এক স্কুলছাত্রকে হত্যার পর মরদেহ গুম করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার প্রেমিকা ও পরিবারের বিরুদ্ধে। নিহতের পরিবারের দাবি, মরদেহটি কাপড়ে মুড়িয়ে ঘরের পেছনে লুকিয়ে রাখার সময় তারা হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এই ঘটনায় রোববার (২১ জুন) কথিত প্রেমিকা, তার মা ও দুই বোনসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত ওয়ালিদ হাসান রায়পুরা পৌর এলাকার কান্দাপাড়ার আব্দুল হাইয়ের ছেলে। সে চলতি বছর স্থানীয় একটি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর ওয়ালিদ তার মা রাশেদা বেগমের সঙ্গে উপজেলার বাহেরচর গ্রামে নানাবাড়িতে থাকত।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাহেরচর এলাকার জাকির মিয়ার মেয়ে প্রাণা আক্তারের সঙ্গে ওয়ালিদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি প্রাণার পরিবার মেনে নেয়নি এবং ওয়ালিদের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। এরই জেরে সম্প্রতি প্রাণাকে এক প্রবাসীর সঙ্গে বিয়ে দেয় তার পরিবার। তবে বিয়ের পরও ওয়ালিদের সঙ্গে প্রাণার যোগাযোগ ও প্রেমের সম্পর্ক বজায় ছিল।
গত ১৮ জুন (বৃহস্পতিবার) রাত থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হন ওয়ালিদ। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পূর্বশত্রুতার জেরে শুরু থেকেই প্রেমিকার পরিবারের ওপর সন্দেহ ছিল ওয়ালিদের স্বজনদের।
শনিবার (২০ জুন) রাত ১১টার দিকে প্রাণাদের বাড়ির পেছনে কাপড়ে মোড়ানো একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় ওয়ালিদের পরিবার। নিহতের ছোট ভাই রোমানসহ স্থানীয়রা সেখানে গিয়ে ওয়ালিদের মরদেহ শনাক্ত করেন এবং পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
নিহতের ছোট ভাই রোমান ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ঘটনার রাতে আমি ভাইকে খুঁজছিলাম। তখন জাকির মিয়ার বাড়ির পেছন থেকে কুকুরের অস্বাভাবিক ঘেউ ঘেউ শব্দ শুনে আমরা সেখানে এগিয়ে যাই। গিয়ে দেখি—প্রাণা, তার মা ও দুই বোন মিলে কাপড়ে প্যাঁচানো ভারী কিছু একটা ঘর থেকে বের করছে। আমাদের সন্দেহ হলে ভেতরে ঢুকতে চাই, কিন্তু তারা আমাদের বাধা দেয়। পরে প্রতিবেশীদের ডেকে এনে ঘরের পেছনে তল্লাশি চালিয়ে কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় আমার ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পাই। তারা মরদেহটি গুম করার চেষ্টা করছিল।
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত প্রেমিকা প্রাণা আক্তার, তার মা ফরিদা বেগম এবং ছোট বোন মিন্নি আক্তারসহ মোট চারজনকে আটক করে। তবে ঘটনার পর থেকেই প্রাণার বাবা জাকির মিয়া পলাতক রয়েছেন।
এদিকে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রোববার দুপুরে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পলাতক আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
সময়ের আলো/জোই