উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গজলডোবা ব্যারাজের ২০টি গেট খুলে দেওয়ার পর নদীতে পানির চাপ আরও বেড়েছে। ফলে কুড়িগ্রামসহ তিস্তা অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২২ জুন) সকাল পর্যন্ত ডালিয়া (দোয়ানী) ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানির উচ্চতা বেড়েছে ৩৮ সেন্টিমিটার। উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিনে নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী, উলিপুর, চিলমারী, রাজারহাট, ফুলবাড়ী, রৌমারী ও চর রাজিবপুরের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এবং চরাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তিস্তার তীরবর্তী বিভিন্ন নিচু এলাকা ও চরাঞ্চলে পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে। এতে আউশ ধান, পাট, বিভিন্ন ফসলের জমিসহ অনেক সবজি খেত তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
টানা তিন দিনের থেমে থেমে বৃষ্টি ও ভারত থেকে পানি নেমে আসায় নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় মালামাল ও গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিস্তার পানি বৃদ্ধির ধারা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। উজানের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সময়ের আলো/জোই