চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় গভীর রাতে সার পাচারের সময় হাতেনাতে ধরে ফেলেছে স্থানীয় জনতা। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট সার ডিলারের ছেলেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
সোমবার (২২ জুন) গভীর রাতে আলমডাঙ্গা উপজেলার বাড়াদী ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার আনিসুর রহমান জোয়ার্দ্দারের প্রতিষ্ঠান ‘জোয়ার্দ্দার ট্রেডার্স’ থেকে সার পাচারের এই ঘটনা ঘটে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীনুর আক্তার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ডিলারের ছেলে সাদ্দাম হোসেনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। পরে জরিমানার টাকা পরিশোধ করে তিনি মুক্তি পান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়াদী ইউনিয়নের ওই বিসিআইসি ডিলারের মূল বিক্রয়কেন্দ্রটি মুন্সিগঞ্জ রাধাকান্তপুর বাজারের সোনাতনপুর মোড়ে অবস্থিত। অভিযোগ রয়েছে, রাতে অন্য মালামালের আড়ালে একটি ব্যাটারিচালিত গাড়িতে করে ২ বস্তা ডিএপি এবং ২ বস্তা ইউরিয়া সার গাংনী ইউনিয়নের নিমতলা গ্রামের এক খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে পাঠানো হচ্ছিল।
গাড়িটি উপজেলার নতিডাঙ্গা গ্রাম পার হওয়ার সময় স্থানীয় কৃষকদের মনে সন্দেহ জাগে। তারা গাড়িটি আটকে তল্লাশি চালান এবং সারের বস্তা দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগকে খবর দেন।
খবর পেয়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর আক্তার পুলিশ ও কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ, আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান।
আদালতের নির্দেশে পাচারকৃত সার জব্দ করা হয়েছে। জব্দ সার কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
ইউএনও শাহীনুর আক্তার জানান, সরকারি সার নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, কারসাজি বা পাচারের সুযোগ নেই। কৃষকের অধিকার হরণ করে সার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। এ কারণে সংশ্লিষ্ট ডিলারের ডিলারশিপ চিরতরে বাতিলের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো সুপারিশ পাঠানো হচ্ছে।
সময়ের আলো/জোই