যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর আরোপিত তেল বিক্রির নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে ৬০ দিনের জন্য প্রত্যাহার এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের চলমান শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির জেরে বিশ্ববাজারে বড় পতন ঘটেছে জ্বালানি তেলের দামে। একই সঙ্গে এলএনজি রফতানি কেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও কমেছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) আন্তর্জাতিক বাজার সূচকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামের বড় ধরনের তারতম্য লক্ষ করা গেছে।
বিনিয়োগকারীদের ধারণা, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ফলে বৈশ্বিক বাজারে ইরানের তেলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। এই প্রত্যাশার সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেলের বাজার সূচকে।
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৭৭ ডলার ৬৩ সেন্টে নেমে এসেছে। বিগত এক মাসের ব্যবধানে এই তেলের দাম কমেছে ১৯ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ৩ দশমিক ১৩ দশমিক কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৩ ডলার ৭৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। মাসের ব্যবধানে এই তেলের দাম কমেছে ২১ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
মার্কিন-ইরান আলোচনার ইতিবাচক প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও পরিশোধিত জ্বালানি বা গ্যাসোলিনের সাপ্তাহিক চিত্রে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে গ্যাসোলিনের দাম গ্যালন প্রতি ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে ২ ডলার ৯৭ সেন্টে পৌঁছেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বা মাসের ব্যবধানে এর দাম ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ কমেছে।
এলএনজি রফতানি টার্মিনালগুলোতে গ্যাসের প্রবাহ বাড়ায় প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম কিছুটা কমেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে এর দাম ০ দশমিক ১৯ শতাংশ কমে প্রতি এমএমবিটিইউ ৩ ডলার ২৩ সেন্টে নেমে এসেছে। তবে মাসের ব্যবধানে গ্যাসের দাম ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ওপেকের বাইরে থাকা অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িক প্রত্যাহার পাচারের ভয় দূর করেছে এবং বাজারে বৈধ তেলের জোগান নিশ্চিত করছে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সময়ের আলো/জোই