একজন জাইমা রহমান কিংবা সমাজের অন্য যেকোনো প্রান্তিক নারী— রাষ্ট্রের কাছে সবাই সমান অধিকারের দাবিদার। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা কোথাও কোনো নারীর বিরুদ্ধে কুৎসা ও নোংরা বক্তব্য এই সরকার বরদাস্ত করবে না বলে বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, রাষ্ট্র ও সরকার সবার সমান অধিকার রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নারীদের সুরক্ষায় আমরা কিছু ব্যাকগ্রাউন্ড ওয়ার্ক করছি। এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ কুৎসা রটানো সরকার কোনোভাবেই সহ্য করবে না।’
নারীদের লক্ষ্য করে অনলাইন সহিংসতার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. জাহেদ বলেন, ‘নারী হলেই কিছু বাড়তি নোংরা কথা চলে আসে, যা পুরুষদের ফেস করতে হয় না। আমি নিজে যখন অ্যাক্টিভিস্ট ছিলাম, কিংবা এখন সরকারে আছি— প্রচুর সমালোচনা ও গালিগালাজ শুনেছি, সেটা ভিন্ন বিষয়। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে যেভাবে বীভৎস কথাবার্তা নিয়ে হাজির হওয়া হয়, তা আমরা থামাব। রাষ্ট্র এসব বিষয় আমলে নেবে। তবে আমরা এটিও নিশ্চিত করব যেন কোনো নিরপরাধ মানুষ এতে জড়িয়ে হয়রানির শিকার না হন।’
ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে একটি ভাইরাল স্ক্রিনশট ও ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টের দিকে ইঙ্গিত করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনো একটা ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান কারো পক্ষে প্রমাণ দিল মানেই যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গেল, বিষয়টি তেমন নয়। ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্ব আমাদের সমাজে অবশ্যই রয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্র তার নিজস্ব নিয়মে কাজ করে। রাষ্ট্র কারো ওপর কোনো অন্যায়-অবিচার করবে না।’
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘যে ছাত্রের কথা বলা হচ্ছে, সেই স্ক্রিনশটটি যদি আসলেই এডিটেড বা ভুয়া হয়ে থাকে, তবে শুধু কারও দাবির ভিত্তিতে রাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে না। রাষ্ট্রের নিজস্ব মেকানিজম এবং সেটি যাচাই করার মতো দক্ষ বিশেষজ্ঞ (এক্সপার্টিজ) রয়েছে। স্ক্রিনশটটি ভুয়া কি না, তা রাষ্ট্র নিজস্ব প্রযুক্তিতে যাচাই করে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে। এতে উদ্বেগের কিছু নেই।’
উপদেষ্টা আশ্বস্ত করে বলেন, ‘যেহেতু রাষ্ট্র বিষয়টি আমলে নিয়েছে এবং পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে, তাই সব প্রক্রিয়া ক্রমান্বয়ে সামনে আসবে। এই সরকার জনগণের ওপর যেন কোনো অন্যায় আচরণ না হয়, তা নিশ্চিত করেই কাজ করে যাচ্ছে।’
সময়ের আলো/জেডি