লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের বিশেষ প্রচেষ্টা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দেশটি থেকে আরও ১৭২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।
লিবিয়ার বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে (ইউজেড ২২২) রওনা হওয়া এই বাংলাদেশিরা বুধবার (২৪ জুন) ভোর ৫টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, ফেরত আসা নাগরিকদের মধ্যে ৮৬ জন লিবিয়ার ত্রিপলীর ‘তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার’ এবং ৩৫ জন ‘বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে’ অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে দীর্ঘদিন আটক ছিলেন। বাকি ৫১ জন বাংলাদেশি নাগরিক ত্রিপলীতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপৎসংকুল পরিস্থিতিতে পড়ে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার আবেদন করেছিলেন। এই পুরো দলে ৫ জন গুরুতর অসুস্থ অভিবাসীও রয়েছেন।
ফ্লাইট ছাড়ার আগে লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ ত্রিপলীর দূতাবাস প্রাঙ্গণে দেশে ফিরতে যাওয়া নাগরিকদের সঙ্গে বিদায়ি সাক্ষাৎ করেন। এ সময় দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) ও প্রথম সচিবসহ (শ্রম) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিদায়লগ্নে রাষ্ট্রদূত অনিয়মিত ও অবৈধ অভিবাসনের ভয়াবহ ঝুঁকি এবং এর নেতিবাচক সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে প্রবাসীদের সচেতন করেন। তিনি তাদের নিজ নিজ এলাকায় ফিরে মানবপাচারকারী ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে এবং এই বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, লিবিয়ায় আটকে পড়া ও ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি বাংলাদেশিদের উদ্ধার করে নিজ দেশে পাঠাতে ত্রিপলির বাংলাদেশ দূতাবাস দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বুধবার (২৪ জুন) বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার থেকে আরও ১৭৫ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করছে দূতাবাস।
সময়ের আলো/জেডি