ভূমিকম্পসহ নগর দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস ও প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ভূমিকম্পের নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে ঘোষণা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান মোল্যার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সংসদকে এ তথ্য জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে মঙ্গলবারের অধিবেশনের শুরুতেই প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ভূমিকম্প ও সুনামির ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের নিকটবর্তী অবস্থানে রয়েছে।’
ভৌগোলিক এ বাস্তবতার কারণে এ ধরনের যেকোনো বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছে এবং তা মোকাবিলায় বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতিমূলক ও ঝুঁকি হ্রাসমূলক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুমাত্রিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগর এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবক সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখার একটি বড় পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন স্বেচ্ছাসেবকদের সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে একটি সমন্বিত স্বেচ্ছাসেবক ডাটাবেজ বা তথ্যভাণ্ডার প্রস্তুতকরণের কাজ বর্তমানে পুরোদমে চলমান রয়েছে। এই ডাটাবেজ সম্পন্ন হলে যেকোনো দুর্যোগে দ্রুততম সময়ে উদ্ধারকাজ ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর, ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কারিগরি সংস্থার সমন্বয়ে ভূমিকম্প ও সুনামি সংক্রান্ত তথ্য নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং যেকোনো জরুরি তথ্য দ্রুততম সময়ে জনগণের কাছে প্রচারের সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে আরও জোরদার করা হয়েছে।
সময়ের আলো/কেএইচও